নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় শুরু হওয়া ২৬২টি পানীয় জল প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে উদ্যোগী হয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তর (পিএইচই)। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্লকে তুঙ্গে উঠেছে পানীয় জলের চাহিদা। ফলে বকেয়া জল প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে পিএইচই। এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের বাঁকুড়া ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার ঋতম ভট্টাচার্য বলেন, বাঁকুড়া জেলাজুড়ে মোট ৯৪৪টি ছোটবড় জল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে বেশিরভাগ কাজই হয়ে গিয়েছে। ৩৫৩টি গ্রামের জন্য এক একটি করে জল প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়। বাকি ২৬২টি প্রকল্পের কাজ চলছে। তারমধ্যে ১৮৩টি প্রকল্পে পাইপ লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আমরা অর্ধসমাপ্ত প্রকল্পগুলি দ্রুত শেষ করার উপর জোর দিয়েছি। ওইসব প্রকল্প শেষ করা গেলে বহু মানুষ চলতি মরশুমেই পরিস্রুত পানীয় জল পাবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। অধস্তন কর্মী-আধিকারিকদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় বর্তমানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রির আশপাশের ঘোরাফেরা করছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলার সঙ্গে সপ্তাহখানেক আগে বাঁকুড়াতেও ঝড়বৃষ্টি হয়। তবে জেলায় এবার এখনও পর্যন্ত কালবৈশাখীর দেখা পাওয়া যায়নি। ফলে বাঁকুড়া শহর সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গন্ধেশ্বরী নদী শুকিয়ে গিয়েছে। দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর কমে যাওয়ায় বাঁকুড়া পুরসভার পাম্প হাউসের অবস্থাও খারাপ। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের জল সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে শহরে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহে মাঝেমধ্যেই প্রভাব পড়ছে। এদিকে, বাঁকুড়া সদর ও খাতড়া মহকুমা এলাকা এমনিতেই খরাপ্রবণ বলে চিহ্নিত। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে চাষের খেত থেকে জলাশয় সবকিছু শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে। এমনিতেই শালতোড়া, ছাতনা, হীড়বাঁধ, ইন্দপুর, রানিবাঁধ ও খাতড়া ব্লকের কিছু এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের স্তর অনেক নীচে। পাশাপাশি বাঁকুড়া-১ ও ২ এবং তালডাংরা ব্লকের পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। ফলে ওইসব এলাকায় অগভীর নলকূপ বসিয়েও অনেক সময়ে প্রয়োজন মতো জল পাওয়া যায় না। বাড়ি বা পাড়ার মোড়ে বসানো নলকূপগুলিও গরমের মরশুমে অকেজো হতে শুরু করে। এখনও সর্বত্র নলবাহিত পানীয় জল পরিষেবা শুরু করা যায়নি। ফলে জলের জন্য বাসিন্দাদের হা পিত্যেশ করে অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে চাষিরা বোরো ধান ও গ্রীষ্মকালীন সব্জি চাষ করেছেন। তারজন্য প্রচুর জলের প্রয়োজন। বর্ষা দেরিতে নামলে গতবারের মতো পরিস্থিতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে চাষের কাজও পিছিয়ে যেতে পারে বলে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন। ফলে পানীয় জলের পাশাপাশি চাষবাস নিয়েও প্রশাসনের আধিকারিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে।