Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুবহু পুলিশের দপ্তর, ডিজিটাল অ্যারেস্টে এবার সিনেমার সেট!

‘লাইট, সাউন্ড, ক্যামেরা—অ্যাকশন’! শুনতে অবাক হলেও এমনটাই সত্যি! ঠিক যেন সিনেমার শ্যুটিং। ‘দক্ষ অভিনেতারা’ ক্যামেরার সামনে দিব্যি অভিনয় করে চলেছে।

হুবহু পুলিশের দপ্তর, ডিজিটাল অ্যারেস্টে এবার সিনেমার সেট!
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘লাইট, সাউন্ড, ক্যামেরা—অ্যাকশন’! শুনতে অবাক হলেও এমনটাই সত্যি! ঠিক যেন সিনেমার শ্যুটিং। ‘দক্ষ অভিনেতারা’ ক্যামেরার সামনে দিব্যি অভিনয় করে চলেছে। ক্যামেরার ওপারে যারা ‘অভিনেতাদের’ দেখছেন, তাঁরা বুঝতেই পারছেন না—নিখাদ গল্প নাকি সত্যি! আসলে শুধু পুলিশের পোশাক পরে আর ভিডিয়ো কল নয়, ডিজিটাল অ্যারেস্টের প্রতারণায় এবার সিনেমার সেট পর্যন্ত তৈরি করছে প্রতারকরা। যেখানে হবহু পুলিশের সদর দপ্তর বানানো হচ্ছে। ভুয়ো অফিসারের চেয়ারের পিছনে প্রতারকরা টাঙিয়ে রাখছে মহাত্মা গান্ধীর ছবিও! সম্প্রতি, প্রতারিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পুলিশ এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে। অনেক প্রতারিত ব্যক্তিই পুলিশকে এই বর্ণনা দিয়েছেন। দিন দিন বাড়ছে ডিজিটাল অ্যারেস্টের প্রতারণা। অথচ, বাস্তবে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কিছু নেই। শিক্ষিত, উচ্চপদস্থ আধিকারিক পদে চাকরি করেও অনেকে প্রতারকদের খপ্পরে পড়ছেন। দিনকয়েক আগেই মুম্বই পুলিশের নাম করে প্রতারকরা সল্টলেকের এক বৃদ্ধাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করেছিল। তাঁর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নাকি কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ‘অ্যাকাউন্টে’ ৭৭০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে! সেই ভয় দেখিয়ে তাঁকে চারদিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে রাখা হয়। আরবিআইকে দিয়ে টাকা যাচাইয়ের তাঁর ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে দেয় প্রতারকরা। সম্প্রতি, একই ফাঁদে পড়ে ওএনজিসি’র এক আধিকারিক ৯৯ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। তাঁকেও বলা হয়েছিল, তাঁর নামে তোলা সিমকার্ড থেকে শিল্পপতিদের ফোন করে হুমকি দিচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন। ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে নিউটাউনের এক অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসার পাঁচতারা হোটেল ভাড়া নিয়েছিলেন চারদিনের জন্য। তিনিও কোটি টাকা খুইয়েছেন। এতদিন প্রতারকরা যে মোবাইল থেকে ফোন করত, তার প্রোফাইলে পুলিশের লোগো বা ছবি লাগিয়ে রাখা হত। ভিডিয়ো কল করার সময় কোনও একজন প্রতারক পুলিশের পোশাক পরত। এবার পুলিশ দপ্তরের পুরোপুরি সেট বানাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ডিজিটাল অ্যারেস্টের এক প্রতারিত ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁকে এমনভাবে ভিডিয়ো কল করা হয়েছিল, তিনি বুঝতেই পারেননি যে তারা প্রতারক। কারণ, যে লোকটি অফিসার সেজে কল করেছিল, তার পাশে অন্যান্য লোকজন পুলিশের পোশাক পরে ফাইল নিয়ে পারাপার করছে। ওই জাল অফিসারের চেয়ারের পিছনেও গান্ধীজির ছবি টাঙানো ছিল। টেবিলে জাতীয় পতাকা। তিনি বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ