Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আউশগ্রামের অন্ধকালী

আউশগ্রামের অন্ধকালী
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল: কালী ও শিবের শিলামূর্তি এক সঙ্গে পূজিত হয় আউশগ্রামের শিবদা গ্রামে। এই কালী কিন্তু পরিচিত অন্ধকালী নামে। এলাকাবাসীর কাছে যা ভৈরবনাথ নামেই পরিচিত। আউশগ্রামের শিবদা গ্রাম। এক সময়ে গ্রামের মহাকাল ভৈরবী ও মহাকাল ভৈরবের পুজোয় মিশ্র পরিবারের সদস্যকে রাজ পুরোহিতের দায়িত্ব দেন বর্ধমানের রাজা। সেই থেকেই গ্রামের মিশ্র পরিবারের সদস‌্যরাই এই কালীর পূজক। কালীর নাম অন্ধকালী সাধারণত হয় না। মিশ্র পরিবারের মুখে শোনা যায় অন্ধকালীর গল্প।

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা যায়, এখানে একসময় সাধক কমলাকান্ত মায়ের সাধনা করছিলেন। এই গ্রাম তখন জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। শোনা যায়,  একদিন মায়ের পুজো চলাকালীন একদল ডাকাত হানা দেয় সেখানে। তারা সাধক কমলাকান্তকে আক্রান্ত করে। কমলাকান্ত দুঃখে মায়ের কাছে গেয়ে ওঠেন, ‘সার হল মা ওর গায়ের ডাঙা।’ এরপরই দেবী রুষ্ট হয়ে ডাকাতদের চোখ অন্ধ করে দেন। যদিও পরে নাকি দেবীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান ডাকাতরা। তারপর থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে মা অন্ধকালী নামেই পরিচিত। অন্ধকালীর নিত্যসেবা হয়। অমাবস্যার দিনগুলিতে দেবীর বিশেষ পুজো চলে। বলিদানের প্রথা রয়েছে এখানে। মানত পূরণ হলে বহু ভক্তই কালীপুজোর সময় ছাগবলি দেন। মিশ্র পরিবারের সদস্য দেবীচরণ মিশ্রর কথায়, মা সবার। মায়ের কাছে এলেই মানত পূরণ হয়। 
অন্যদিকে, কাটোয়া শহরের মাধাইতলার ভট্টাচার্য বাড়ির বালকেশ্বরী কালীর পুজো হয় মহা সমারোহে। ১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি হয় এখানে। সঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমরা বাংলাদেশের যশোরে থাকতাম। পরে কাটোয়া আসার পর আমার ছেলে অভীক ভট্টাচার্য ছোট থেকে নিজেই কালী প্রতিমা গড়ে পুজো করত। তাই এর নাম বালকেশ্বরী কালী। অঙ্কন: সুমনকুমার সিংহ

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ