Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

নাগরিক বাছাইয়ের এক্তিয়ার নেই কমিশনের, ভোটের মুখে ইন্টেনসিভ রিভিশন কেন? তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

বিহারের ভোট প্রায় দোরগোড়ায়। অক্টোবরে নির্বাচন। আর তার মাত্র মাসতিনেক আগে ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) কেন শুরু হল?

নাগরিক বাছাইয়ের এক্তিয়ার নেই কমিশনের, ভোটের মুখে ইন্টেনসিভ রিভিশন কেন? তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিহারের ভোট প্রায় দোরগোড়ায়। অক্টোবরে নির্বাচন। আর তার মাত্র মাসতিনেক আগে ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) কেন শুরু হল? মাত্র ৩০ দিনে এত বড় জনসংখ্যার নাগরিকত্ব যাচাই কী সম্ভব? জনগণনাতেও তো এক বছর সময় লাগে! এমনকী নাগরিকত্ব যাচাই তো আদৌ নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারে পড়ে না। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিষয়! তাছাড়া এই কর্মসূচিতে নাগরিকত্বের অন্যতম প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড গ্রাহ্য হবে না কেন? বৃহস্পতিবার একের পর এক সওয়ালে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভৎর্সনা করল সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

এদিন সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির গ্রীষ্মাবকাশকালীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর কর্মসূচিতে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না ঠিকই। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং রেশন কার্ডকে গ্রাহ্য করা যায় কি না, কমিশনকে তা বিবেচনা করতে হবে। বিচারপতিদ্বয় এও বলেন, ‘এই তিনটি নথিকে যদি গ্রাহ্য করা না হয়, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে কমিশনকে।’ ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানি।
কমিশনকে এদিন কড়া প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি। বলেন, ‘ভোটার পরিচয়পত্র (এপিক) তো কমিশনই দিয়েছে। সেই কার্ড দেখিয়ে ভোটও দিয়ে এসেছেন ভোটাররা। অথচ এখন স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের জন্য কমিশনের জারি করা ১১টি নথির মধ্যে সেই এপিকই নেই? নিজেদের জারি করা কার্ডও চলবে না?’ বিচারপতি ধুলিয়াও বলেন, ‘ওই ১১টি নথির মধ্যে আপনারা জাতি শংসাপত্র রেখেছেন। অথচ যে আধার কার্ড দেখিয়ে তা পাওয়া যায়, সেটিই বাদ! সবচেয়ে বড় কথা এত অল্প সময়ের মধ্যে ওই নির্দিষ্ট উল্লিখিত নথি জোগাড় করাও কি সম্ভব? আপনারা যদি অবিলম্বে এই নথিগুলি চান, এমনকী আমিও তা দেখাতে পারব না। তাছাড়া নাগরিকত্ব তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক্তিয়ারের বিষয়!’ 
গত ২৫ জুন থেকে বিহারে শুরু হয়েছে এসআইআর। জানানো হয়েছে, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল না, তাঁদের জমা করতে হবে কিছু নথি। দিতে হবে নাগরিকত্বের প্রমাণও। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পাশাপাশি মহুয়া মৈত্র, কে সি বেণুগোপাল, মনোজ ঝা, সুপ্রিয়া সুলে, ডি রাজার মতো বিরোধী নেতানেত্রীরাও। তাঁদের হয়ে এদিন সওয়াল করেন গোপাল শঙ্করনারায়ণ, কপিল সিবাল, অভিষেক মনু সিংভির মতো আইনজীবীরা। তাঁরা বলেন, বিহারের পর বাংলায় ভোট। সেখানেও এই স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন হবে। গোটা দেশেই হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। তাহলে প্রতি বছর জানুয়ারিতে ভোটার তালিকার সামারি রিভিশন করার অর্থ কী? 
কমিশনের আ‌ইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদি যদিও বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন, ‘অহেতুক আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈধ কোনও ভোটারের নাম বাদ যাবে না। আগামী ১ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। আগে সেটা দেখুন।’ তারপরও অবশ্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির প্রশ্ন, যদি কেউ সময়মতো নির্দিষ্ট নথি দিতে না পারেন কিংবা কোনও কারণে ফর্ম ফিল-আপ করা সম্ভব না হয়, তাহলে কী হবে? তাঁরা কি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবেন? কমিশন জানাল, ফর্ম সবাইকেই পূরণ করতে হবে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ