সৌরাংশু দেবনাথ, মুম্বই: কেটে গিয়েছে ৩৯ বছর। তবু আপশোস, আক্ষেপ টাটকা। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয় এখনও রক্তাক্ত করে। পেটের গণ্ডগোলে ম্যাচটা খেলতেই যে পারেননি দিলীপ বেঙ্গসরকর!
সৌরাংশু দেবনাথ, মুম্বই: কেটে গিয়েছে ৩৯ বছর। তবু আপশোস, আক্ষেপ টাটকা। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয় এখনও রক্তাক্ত করে। পেটের গণ্ডগোলে ম্যাচটা খেলতেই যে পারেননি দিলীপ বেঙ্গসরকর!
আরব সাগরের পাড়ে আরও এক বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল এবং উল্টোদিকে ইংল্যান্ড। ফরম্যাট যতই আলাদা হোক, মনের ক্যামেরায় ভাসছে চার দশক আগের টুকরো টুকরো ছবি। অনূর্ধ্ব-২২ ম্যাচের জন্য পুণেতে থাকা বেঙ্গসরকরের গলায় যন্ত্রণা, ‘হ্যাঁ, ওয়াংখেড়েতে হেরে গিয়েছিলাম আমরা। দ্যাট ওয়াজ আ ব্যাড ডে ফর মি। ফুড পয়জনিংয়ের জন্য মাঠে নামতে পারিনি। বাইরে থেকে দেখতে হয়েছিল ভারতের হার। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।’ তাঁর অনুপস্থিতি ভারতের কাছে ছিল বড় ধাক্কা। ফর্মের তুঙ্গে থাকা কর্ণেল ব্যাট হাতে নামলে কি আর ৫০ ওভারে মাইক গ্যাটিং ব্রিগেডের ছুড়ে দেওয়া ২৫৪ রানের টার্গেট ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকত? বেঙ্গসরকরের গলায় এবার আলতো প্রতিবাদ, ‘এটা যাঁরা বলেন, তাঁদের মহত্ব। আমি আর কী বলব? ঘরের মাঠে সেমি-ফাইনাল, অথচ খেলতেই পারলাম না!’
সেবার খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দেখাচ্ছিল কপিল দেবের দলকে। এবারও ভারত লড়ছে বিশ্বকাপ দখলে রাখার তাগিদে। সেজন্যই তিরতিরে আশঙ্কা দানা বাঁধছে। ইংল্যান্ডের হাতে আরব সাগরে ফের ভরাডুবি হবে না তো? আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বেঙ্গসরকরের জবাব, ‘না না, চিন্তার কিছু নেই। ভারতই জিতবে। ইংল্যান্ড এবার পাত্তা পাবে না!’ ব্যর্থতার কানাগলিতে ঘুরপাক খাওয়া অভিষেক শর্মাকে নিয়েও আশাবাদী তিনি, ‘সম্প্রতি ওর মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে কাউকে দেখিনি। আমার বিশ্বাস, দ্রুত ছন্দে ফিরবে। সেমি-ফাইনাল বড় ম্যাচ। আর বড় প্লেয়াররা এমন আসরেই জ্বলে ওঠে।’ ইডেনে সঞ্জু স্যামসনের ইনিংসেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বেঙ্গসরকর। প্রাক্তন অধিনায়কের মতে, ‘অসাধারণ খেলল। সঞ্জু দেখাল যে, অর্থোডক্স শট খেলেও এই ফরম্যাটে ঝড় তোলা যায়। খুব পরিণত দেখাল ওকে। দায়িত্ব নিয়ে টেনেছে দলকে। এই ইনিংসটা বাকিদের কাছে মোটিভেশন হওয়া উচিত।’ চলতি বিশ্বকাপের পিচ অবশ্য স্ট্রোক প্লেয়ারদের কিছুটা ঝামেলায় ফেলছে। তবে ওয়াংখেড়ের পিচ ব্যাটিংয়ের পক্ষে উপযোগী হবে বলেই ধারণা বেঙ্গসরকরের। তাঁর কথায়, ‘হাইস্কোরিং ম্যাচ হবে। রান উঠবে। দেখবেন ভারত ঠিক জিতবে। এই দলটায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মশলা মজুত।’
ওয়াংখেড়েতে ইংরেজ-বধ তাঁর কাছেও জরুরি। এত বছরের পুরনো ক্ষতে তবেই যে মলম পড়বে!