Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমাজ রক্ষার থিমে সাজছে কলেজপাড়া পুজো কমিটির মণ্ডপ বাউল ও লোকসংস্কৃতি সুভাষপল্লির সঙ্ঘশ্রীতে

মণ্ডপে ঢুকতেই দাঁড়িয়ে পড়তে হবে বিশাল আকারের দোতারা দেখে

সমাজ রক্ষার থিমে সাজছে কলেজপাড়া পুজো কমিটির মণ্ডপ বাউল ও লোকসংস্কৃতি সুভাষপল্লির সঙ্ঘশ্রীতে
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: মণ্ডপে ঢুকতেই দাঁড়িয়ে পড়তে হবে বিশাল আকারের দোতারা দেখে। পুরনো জরাজীর্ণ একটি বাড়ির উপর হেলে পড়েছে দোতারাটি। তারপর মণ্ডপে ঢুকে দেখা যাবে বাউল বেশে দুর্গাকে। হারিয়ে যেতে বসা বাউল ও লোকসংস্কৃতিকে আজকের প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করাতেই শিলিগুড়ির সুভাষপল্লি সঙ্ঘশ্রী ক্লাবের এবারে দুর্গাপুজোর থিম, ‘দিগন্তের সুর’। সঙ্ঘশ্রী ক্লাব থেকে কয়েক’পা এগলেই কলেজপাড়া পুজো কমিটির দুর্গাপুজো। এবার এদের ৭৫ বছরের পুজো। সামাজিক অবক্ষয় থেকে সমাজ রক্ষা করতে থিম করা হয়েছে ‘শুদ্ধসূচি’। 

Advertisement

জটিল জীবনযাত্রায় মানুষ বড় অশান্ত হয়ে উঠেছে। ধৈর্য, সংযম এক জটিল জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে মানুষের। হারিয়ে গিয়েছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার রসদ। এতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জটিল সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে গোটা সমাজকে। সেই অবক্ষয় থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে কলেজপাড়া পুজো কমিটি তাদের থিমের নামকরণ করেছে ‘শুদ্ধসূচি’।  চারটি ভাগে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। প্রথম ভাগে মনকে শান্ত করার জন্য ধ্যানের পরিবেশ তৈরি করা হবে। মন শান্ত ও ধৈর্যশীল হবে এমন সব জিনিস দিয়েই পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এরপরের ধাপে লাইব্রেরি ও  কিছু যান্ত্রিক জিনিস রাখা থাকবে। পরবর্তী ধাপে ৮০টিরও বেশি ছোট নানা ধরনের প্রতিমা, অবয়ব দিয়ে তৈরি হবে একটি পরিবেশ। সব শেষে থাকবে মা দুর্গার মূর্তি। শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার শিল্পী দীপঙ্কর দাস মণ্ডপটি তৈরি করছেন। তিনি বলেন, অন্ধ অনুকরণ ও প্রতিযোগিতার যুগে মানুষ ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। পুরনো ধ্যান ধারণার মধ্য দিয়ে মনকে শান্ত করে সুস্থির সুন্দর জীবন উপভোগ করার জন্য একাগ্রতা দরকার। সেটা বোঝাতেই এই থিম। মণ্ডপে ঢোকার পর সকলে শুদ্ধসূচির বিষয়টি বুঝতে পারবেন। 
অবক্ষয়ে হারিয়ে যাওয়া বাউল সংস্কৃতিকে বাঁচানোর আবেদন জানাচ্ছে সঙ্ঘশ্রী ক্লাব। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা সর্বত্রই বাউল সংস্কৃতি মেলে ধরা হচ্ছে। বাউলের প্রতীক একতারা ও দোতারা। তাই মণ্ডপে ঢুকতেই বিশাল আকার দোতারা দেখা যাবে। ক্লাবের অন্যতম সদস্য শৈবাল দত্ত বলেন, আজকের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় এখনকার ছেলেমেয়েরা বাউল কী তা জানেই না। বাউলের এই অবলুপ্ত পরিস্থিতি বোঝাতেই পুরনো জীর্ণ বাড়ির উপরে দোতারা রাখা হচ্ছে। বাউল খুব সাদামাটা লোকসংস্কৃতির ধারা। সেজন্য আমাদের মণ্ডপসজ্জা হবে সাদামাটা। বাউলের ছোঁয়া থাকবে মণ্ডপজুড়ে। মাথায় জটা নিয়ে বাউল রূপে দেখা যাবে দুর্গাকে। তারও হাতে থাকবে বাউল বাদ্যযন্ত্র। লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশও বাউল বেশে থাকবে হাতে দোতারা নিয়ে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ