Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬

প্রতিবেশী দেশের নির্বাচিত সরকারের পতন অব্যাহত

সংসদ ভবনে আগুন দেওয়া অথবা সরকারের পতন— বিগত চার বছরের চেনা প্রবণতার নয়া অধ্যায়। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে গণঅভ্যুত্থান, জনজাগরণ, সেনা অভিযান আর ছাত্র আন্দোলনের নামে একের পর এক নির্বাচিত সরকারের পতন অব্যাহত।

প্রতিবেশী দেশের নির্বাচিত সরকারের পতন অব্যাহত
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদ ভবনে আগুন দেওয়া অথবা সরকারের পতন— বিগত চার বছরের চেনা প্রবণতার নয়া অধ্যায়। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে গণঅভ্যুত্থান, জনজাগরণ, সেনা অভিযান আর ছাত্র আন্দোলনের নামে একের পর এক নির্বাচিত সরকারের পতন অব্যাহত। ২০২০ সালে মায়ানমারের জাতীয় গণতান্ত্রিক দলের নেত্রী আন সাং সুকির দল ভোটে জয়ী হলেও ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেনা অভ্যুত্থানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩৩ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে জেলবন্দি ৮০ বছরের নেত্রী। সেই বছরই আফগানিস্তানের শাসক আশরফ গনির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে তালিবান। গনিকে পালাতে হয় দেশ ছেড়ে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় গণ অভ্যুত্থান।  মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষে প্রাথমিকভাবে গদি আঁকড়ে বসে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালান। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। আর এবার নেপাল। নেপালের সংসদে আগুন নতুন নয়। ২০২১ সালেও একটি বিল পেশকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়েছিল দেশটি।  সংসদের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের মতো এমন নৈরাজ্য নেপালে বিগত ২০ বছরে হয়নি।

Advertisement

২০০৬ অথবা ২০১৬— বহু বার নেপাল অগ্নিগর্ভ হয়েছে বিক্ষোভে। তবে এখন যা চলছে তা সম্পর্কে কোনও আন্দাজই ছিল না। মাত্র ১০ দিন আগে চীনের তিয়ানজিন শহরে আয়োজিত এসসিও সম্মেলনে জি জিনপিং এর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। ওই সাক্ষাতের পর ওলি জানিয়ে এসেছিলেন যে, ভারত এবং চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করা হবে। কারণ ভারত যতই দাবি করুক, লিপু লেক নেপালেরই অংশ। ওই অংশ ভারতকে দখল করতে দেওয়া যাবে না। ভারত তীব্র প্রতিবাদ করে এই দাবির। ওলির বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ সাম্প্রতিকালে উঠেছিল, তিনি চীনের অঙ্গুলিহেলনেই চলছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়েছে। দেশের মধ্যে ক্ষোভ ছিলই। কিন্তু চারটি মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন ওলি।  প্রসঙ্গত ২০২১ সালেও টিকটক নিষিদ্ধ করার সময় নেপালে তীব্র বিক্ষোভ হয়েছিল। এবার অবশ্য তার বহুগুণ বেশি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক মঙ্গলবার বলেছে, আমরা সতর্কভাবে ঘটনাপরম্পরার দিকে নজর রাখছি। তবে আপাতত ভারতবাসী যেন নেপালে না যায়। দার্জিলিংয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। মিরিকে স্পেশাল পেট্রলিংয়ের নির্দেশ। আরও এসএসবি গার্ড পাঠানো হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ