Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বদলে যাচ্ছে শহরের জনবিন্যাস, আবাসনের ‘চরিত্র’ বুঝতে মেগা বৈঠকের আয়োজন মেয়রের

শহরে বাড়ছে একের পর এক বহুতল আবাসন। সেসব হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে ভিন রাজ্যের বহু বাসিন্দারাও এসে ফ্ল্যাট কিনছেন। কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলা-বাঙালি ও কলকাতার ‘আত্মা’র সঙ্গে তাঁদের ‘একাত্ম’ করতে উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস তথা রাজ্য প্রশাসন।

বদলে যাচ্ছে শহরের জনবিন্যাস, আবাসনের ‘চরিত্র’ বুঝতে মেগা বৈঠকের আয়োজন মেয়রের
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে বাড়ছে একের পর এক বহুতল আবাসন। সেসব হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে ভিন রাজ্যের বহু বাসিন্দারাও এসে ফ্ল্যাট কিনছেন। কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলা-বাঙালি ও কলকাতার ‘আত্মা’র সঙ্গে তাঁদের ‘একাত্ম’ করতে উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস তথা রাজ্য প্রশাসন। বস্তুত আবাসনগুলির ‘চরিত্র’ বোঝার চেষ্টাতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আজ, বুধবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে শহরের বিভিন্ন বহুতল আবাসনের পরিচালন কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেখানে শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের সমস্ত কাউন্সিলারকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণের দু’জন সাংসদ ও কলকাতা পুর-এলাকার ১৬টি বিধানসভার বিধায়কদেরও থাকার কথা এদিনের সভায়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে আবাসনের প্রতিনিধিদের সামনে ভার্চুয়ালি বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

Advertisement

শহরে নিত্যনতুন হাইরাইজ বিল্ডিং হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলের জনবিন্যাস। বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত পুর পরিষেবা মিললেও, অনেক জায়গা থেকে নানা ধরনের অভিযোগও থাকে। বহুতল আবাসনে নতুন বাসিন্দা আসছেন। কেউ শহরের বাইরে থেকে কেউ আবার ভিনরাজ্য থেকেও। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আবাসনে কোথায় কী প্রয়োজন, তাঁদের কী সমস্যা, দাবি-দাওয়া, সবটাই শুনবেন মেয়র। দেওয়া হবে তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও। সূত্রের খবর, যে সমস্ত আবাসনে ন্যূনতম ১৫০ জন ভোটার রয়েছেন, তাঁদের এদিনের সভায় ডাকতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ মাঝারি থেকে বড় সব ধরনের বহুতলের পরিচালন সমিতির প্রতিনিধিদের বৈঠকে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের যাবতীয় দায়িত্ব ছিল স্থানীয় কাউন্সিলারদের। এই মর্মে কাউন্সিলারদের কাছে নির্দেশ গিয়েছে। তাঁরাই আবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকে আসার কথা বলেছেন। পাশাপাশি, সাংসদ এবং বিধায়কদেরও ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের এলাকায় থাকা পরিচিত আবাসন কর্তৃপক্ষকে এদিনের সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে বলা হয়েছে। 
কিন্তু আচমকা কেন এই বৈঠক? সবটাই কি পুর পরিষেবা বা আবাসনের আবাসিকদের সমস্যার সমাধানের লক্ষ্য? রাজনৈতিক মহল অবশ্য মনে করছে, এই সভার উপলক্ষ্য এক, কিন্তু লক্ষ্য অন্য। শহরের বেশিরভাগ আবাসনে অবাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি। বিগত বিভিন্ন ভোটের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, আবাসনের ভোটাররা অনেকাংশে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি বিরূপ। সেক্ষেত্রে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁদের ‘মন’ পেতে এই বৈঠক ডাকা হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, বিভিন্ন আবাসনে আলাদা করে সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হবে। সেক্ষেত্রে আবাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের মতামত শুনতে চাওয়া হতে পারে এদিনের সভায়, তেমনটাও মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন আবাসনের পরিচালন কর্তা-ব্যাক্তির সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ‘চরিত্র’ বুঝে নিতে চাইছে সরকারপক্ষ, তেমনটাই মত রাজনীতির কারবারিদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ