নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতায় আছে অতি প্রাচীন একখানি জগন্নাথ মন্দির। সেটি রয়েছে খানিক লোকচক্ষুর অন্তরালে। নয় নয় করে মন্দিরটির বয়স ২১০ বছর। এখনও সেখানে নিয়ম করে রথযাত্রা হয়। রথটি অভিনব। সেটি চলে আধুনিক গাড়ির মতো একটি স্টিয়ারিংয়ের সাহায্যে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতায় আছে অতি প্রাচীন একখানি জগন্নাথ মন্দির। সেটি রয়েছে খানিক লোকচক্ষুর অন্তরালে। নয় নয় করে মন্দিরটির বয়স ২১০ বছর। এখনও সেখানে নিয়ম করে রথযাত্রা হয়। রথটি অভিনব। সেটি চলে আধুনিক গাড়ির মতো একটি স্টিয়ারিংয়ের সাহায্যে।
দক্ষিণ কলকাতার হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট। তা ধরে সোজা হেঁটে জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছনো যায়। তবে সে পথে না গিয়ে আশুতোষ মুখার্জি রোড থেকে বলরাম বোস ঘাট রোড ধরে নাক বরাবর সোজা হাঁটলেই আদি গঙ্গার তীর। ওই ঘাটের নামও বলরাম বোস ঘাট। সেটি সতীঘাট বলেই বেশি পরিচিত। সেখানেই রয়েছে ২১০ বছরের প্রাচীন মন্দিরটি। সে ঘাটের উপর একটি পাথরের ফলক রয়েছে। পাথরে খোদাই, ‘সতীদাহ স্থান’। শোনা যায়, এককালে এখানে সতীদাহ হয়েছিল। স্থানীয় এক পরিবারের মহিলা সতী হয়েছিলেন। তারপর বসে ফলকটি। অনেকে অবশ্য প্রশ্ন তোলেন, ‘অন্য কোনও ঘাটে তো অমন পাথর পাওয়া যায় না। এখানে কেন? কীভাবে?’ যাই হোক, সে সতীদাহ স্থানের পাশেই রয়েছে জগন্নাথ মন্দিরটি। স্থাপিত ১২১৭ বঙ্গাব্দে। ইংরেজি ১৮১০ সাল।
এই জগন্নাথ মন্দিরই কলকাতার সবথেকে পুরনো বলে দাবি পুরোহিতের। তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে পুরনো মন্দির কলকাতায় আর নেই।’ তবে ইতিহাসবিদরা সেই দাবি শোনা মাত্রই নাকচ করেন। বলেন, ‘এর আগে উত্তর কলকাতায় গঙ্গার ধারে জগন্নাথ ঘাট হয়ে গিয়েছে। বলরাম বোস ঘাট সবথেকে পুরনো হতেই পারে না।’ পুরোহিত বলেন, ‘আমরা কয়েক পুরুষ ধরে এই মন্দিরে পুজো করছি। বড় করে এখনও রথযাত্রা হয়। আমাদের এই রথে স্টিয়ারিং থাকে।’ শোনা যায়, যাঁর নামে রাস্তার নাম সে বলরাম বোস ভবানীপুরে একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন। বর্গী আক্রমণ থেকে মহিলাদের বাঁচাতে বাড়ি থেকে ঘাট পর্যন্ত তৈরি করেছিলেন একটি সুরঙ্গ। সে পাতালপথ দিয়ে এই ঘাটে এসেছেন রানি রাসমণিও।
ওই যে জগন্নাথ মন্দির, তার ফলকে লেখা, ১৪১৪ বঙ্গাব্দে মন্দির সংস্কার হয়েছে শরত্ বিদ্যুত্ মেমোরিয়ালের মাধ্যমে। এই শরত্ বিদ্যুত্ মেমোরিয়ালের পিছনে আছে অন্য এক ইতিহাস। বিদ্যুত্পর্ণা নামে এক মহিলা তাঁর ৪০ বছরের বৈবাহিক জীবনে রোজ স্বামীর পা ধোয়া জল খেতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল এর ফলে স্বামীর সঙ্গে একসঙ্গে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করতে পারবেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে বিদ্যুত্পর্ণার স্বামী শরত্ বোস স্ত্রীর আগেই মারা যান। সেই শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বিদ্যুত্পর্ণার। পরে তাঁদের স্মৃতিতেই তৈরি হয় শরত্-বিদ্যুত্ মেমোরিয়াল’। সেই মেমোরিয়াল জগন্নাথ মন্দিরের সংস্কার করে। আর মৃত্যু স্মৃতিতে তৈরি মেমোরিয়ালের দৌলতে বেঁচে যায় ২১০ বছরের একটি মন্দির।