Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলা নববর্ষ থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয় শান্তিপুর-ফুলিয়ার তাঁতিপাড়ায়

বৈশাখের তপ্ত দুপুরেও শান্তিপুর-ফুলিয়ার তাঁতপল্লিতে মাকু চলার শব্দ বিরামহীন। পহেলা বৈশাখ এতদঞ্চলের হাজার হাজার তাঁতশিল্পীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা নববর্ষ থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয় শান্তিপুর-ফুলিয়ার তাঁতিপাড়ায়
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অরিজিৎ ঘোষাল, রানাঘাট: বৈশাখের তপ্ত দুপুরেও শান্তিপুর-ফুলিয়ার তাঁতপল্লিতে মাকু চলার শব্দ বিরামহীন। পহেলা বৈশাখ এতদঞ্চলের হাজার হাজার তাঁতশিল্পীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পহেলা বৈশাখের আনন্দের মাঝেই তাঁতিপাড়ায় শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা।

Advertisement

পহেলা বৈশাখের সকাল থেকেই ফুলিয়ার বিভিন্ন তাঁতিপাড়ায় উৎসবের আমেজ দেখা যায়। তাঁতিরা ভাগীরথী নদীতে স্নান সেরে, নতুন জামাকাপড় পরে বাড়িতে লক্ষ্মী-গণেশের আরাধনায় সামিল হন। বেশিরভাগ তাঁতি ও মহাজনদের বাড়িতে এদিন হালখাতা অনুষ্ঠান হয়। পুরনো বছরের দেনাপাওনা মিটিয়ে নতুন লাল খাতায় স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে আবার হিসাব শুরু হয়। মিষ্টিমুখ ও আড্ডাও চলে। তবে আনন্দের সঙ্গেই মিশে থাকে ব্যস্ততার সুর। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে যখন আরও ছ’মাস বাকি, সেসময় শান্তিপুর ও ফুলিয়ার তাঁতিদের মধ্যে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। চৈত্র সেলের পর বৈশাখের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মহাজনরা নতুন নতুন নকশার বরাত দিতে শুরু করেন। পুজোয় যে জামদানি বা টাঙ্গাইল শাড়ি বাজার মাতাবে, তার খসড়া তৈরি হয় এই সময়েই। পহেলা বৈশাখ থেকে রথযাত্রা অবধি একটানা কাপড় বোনার কাজ চলে। বর্ষা নামলে সুতো শুকানো ও রংয়ের কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। তাই বৈশাখের এই রোদকেই তাঁতশিল্পীরা কাজে লাগান।
শান্তিপুরের তাঁতশিল্পী প্রিয়তোষ সাহা বলেন, বাংলা নববর্ষের পর থেকেই আমাদের পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়। পুজোয় কোন নকশাটা চলবে সেটা নিয়ে আমরা পর্যবেক্ষণ করি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এবার সুতোর দাম অনেকটাই বেড়েছে। ফলে শাড়ির দাম শুনে ক্রেতারা মুখ ফেরাচ্ছেন। সুলভ দামে ভালো মানের শাড়ি বিক্রি করাই এখন আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পদ্মশ্রীপ্রাপক তাঁতশিল্পী বীরেনকুমার বসাক বলেন, এখন তাঁতশিল্পের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তাই মজুরিতেও অনেক তারতম্য লক্ষ করা যাচ্ছে। যন্ত্রচালিত তাঁত ধীরে ধীরে হস্তচালিত তাঁতের বাজার দখলকরছে। হস্তচালিত তাঁতে শাড়ি বুনতে দু’তিনদিন লাগে। সেখানে যন্ত্রের সাহায্যে দিনে চার-পাঁচটি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। এতে কাপড়ের গুণগত মান কমছে। তবে আমরা হাতে গোনা কয়েকজন তাঁতশিল্পী এখনও হস্তচালিত তাঁত বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। এখন বাংলা অক্ষর লেখা শাড়ির বাজারে চাহিদা বেড়েছে। এই শাড়ি কিনতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন।
কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পাওয়ার লুমের সঙ্গে অসম লড়াই থাকলেও শান্তিপুরের হ্যান্ডলুম ও ফুলিয়ার মসলিন, টাঙ্গাইলের চাহিদা এখনও অমলিন। তাঁতিরা জানান, বৈশাখের শুরুতে ঠিকমতো কাজ করতে পারলে পুজোর আগে সঠিক সময়ে বাজারে শাড়ি পাঠানো সম্ভব হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ