


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘কী করে নেব?’ ফুডস্টলের সামনে বান্ধবীর ঝাঁঝালো প্রশ্ন। সঙ্গে লাল চোখ। এদিকে তাঁর বন্ধুর দু’হাতে খাবারের প্লেট। আর তাঁর এক হাতে বইভর্তি ব্যাগ। অন্য হাতে দু’জনের জ্যাকেট। খাবারের প্লেট ধরার উপায় নেই। তাই মেজাজ গরম। বইমেলায় ব্যাগ-জ্যাকেট রাখার জায়গা তো আলাদা করে থাকবে এমন নয়, তাই এরকম দৃশ্য বিক্ষিপ্ত নয়, সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসের বইমেলা। অথচ এই মরশুমে বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে শীতের পোশাক। ভূস্বর্গের অনুভূতি দেওয়ার জন্য স্টল সাজিয়েছে কাশ্মীর। সেখানে রাখা ‘কাশ্মীরি কাওয়া’। শীতের মরশুমে ভিড় উপচে পড়ার কথা। কিন্তু শীতই যখন শীতঘুমে তখন কাওয়ার কদর থাকবে কী করে! তাই খরিদ্দার হাতে গোনা। গরম চায়ে চুমুক দেওয়া থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন অনেকে। উল্টে কদর বাড়ছে কোল্ডড্রিঙ্কসের।
বেশিরভাগ বইপ্রেমী মেলায় ঢুকছেন দুপুরের মধ্যে। কিছুক্ষণ ফাঁকায় ফাঁকায় স্টল ঘুরে, দেখে বই কেনাই উদ্দেশ্য। দুপুরের দিকে গরম বেশি। জ্যাকেট-সোয়েটার গায়ে রাখা কার্যত অসম্ভব। তবে রাতে ফিরতে হবে বলে প্রত্যেকেরই হাতে শীতের পোশাক। সন্ধ্যা নামার পর অল্প হলেও শীতের আমেজ আছে। ফলে সোয়েটার বইতে হচ্ছে। হাত খালি রাখতে কিছু লোক গরম লাগলেও গায়ে গলিয়ে রাখছেন চেন খোলা জ্যাকেট। তবে বেশিরভাগেরই হাতেই থেকে যাচ্ছে শীতের পোশাক। কেউ কোমরে বেঁধে ঘুরছেন।
মলয় হালদারের কথায়, ৩-৪ দিন বইমেলায় এসেছি। আরও আসব। জ্যাকেট নিয়ে আসছি। কিন্তু একদিনও পরতে পারলাম না। যে বন্ধুরা বাইকে করে এসেছেন, কেবল ফেরার সময় তাঁরাই পরছেন। এই গরমে গায়ে রাখাই যাচ্ছে না। রাতে অবশ্য হালকা শীত ভাব আছে। তখন পরতে হয়। শীতের সময় কাশ্মীরি কাওয়ার চাহিদা থাকে তুঙ্গে। এবারও স্টল দিয়েছে কাশ্মীর। কাওয়াও রাখা আছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। কাশ্মীরের এক যুবক বলেন, দিনের বেলায় কেউ কাওয়া খাচ্ছেন না। সন্ধ্যার পর কিছু বিক্রি হচ্ছে। তাও হাতে গোনা। ঠান্ডা বাড়লে লম্বা লাইন পড়ে যেত। নিজস্ব চিত্র