


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনেখালিতে এবার বিধানসভা ভোটে লড়াই তিন ভূমিকন্যার। বিরোধীদের বক্তব্য, সন্ত্রাস আর লাগামহীন দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করেই ভোটযুদ্ধে নামছে তারা। অন্যদিকে, শাসকদল প্রচারে শান দিচ্ছে উন্নয়নের অস্ত্রে।
প্রথম সারির তিন দল তৃণমূল, বিজেপি ও বামজোটের প্রার্থী তিন মহিলা। তাঁদের প্রত্যেকেই থাকেন ধনেখালিতে। ফলে বহিরাগত ইস্যু এখানে ব্রাত্য। তৃণমূলের টিকিটে ধনেখালিতে প্রার্থী হয়েছেন তিনবারের বিধায়ক অসীমা পাত্র। বিজেপি প্রার্থী করেছে বর্ণালী দাসকে (মণ্ডল)। বামজোটের প্রার্থী একানে সিপিআই(এমএল)-এর রুমা আহেরী। ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ভোটারের এই কেন্দ্রে পুরুষ ও মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান সমান।
তৃণমূল প্রার্থী অসীমা পাত্র বলেন, তিনবার বিধায়ক হয়েছি। ধনেখালির সার্বিক উন্নয়নের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এখানে ১০০ শয্যার স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হয়েছে। অগ্নি নির্বাপণ কেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। আইটিআই কলেজ হয়েছে। ধনেখালি কলেজ মোড় থেকে বোসো পর্যন্ত ৭২টি সৌর আলো লাগানো হয়েছে। নিরাপত্তায় নজর দিতে ১২৫টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গাতেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ। এখনও যেসব রাস্তায় বিদ্যুতের আলো জ্বলে না, আগামী দিনে সেখানে সৌর আলো লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় সড়কের পাশে তাঁত শিল্পীদের ঘর তৈরি ও সেখান থেকে শাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা যাতে করা যায়, তার চেষ্টা করব। আরেকটি বিশেষ কাজ এই এলাকায় হয়েছে, সেটি হল অস্থি বিসর্জন যাত্রী ডেরা। আদিবাসী সম্প্রদায়ের কেউ মারা গেলে সেই রাতে তাঁরা বাড়িতে থাকেন না। যাত্রী ডেরায় রাতযাপন করেন। আদিবাসীদের জন্য এই বিশেষ যাত্রী ডেরা তৈরি হয়েছে। আরও কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় এমন ডেরা তৈরি হবে আগামী দিনে।
বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী এই উন্নয়নকে লোক দেখানো বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ, ধনেখালিতে হাসপাতাল বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে, অথচ সেখানে পর্যাপ্ত পরিষেবা পান না রোগীরা। বেশিরভাগ রোগীকেই চুঁচুড়া অথবা কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মহিলা সুরক্ষায় ধনেখালি বিধানসভা এলাকায় ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু করব আমরা। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে। একাধিক রাস্তা হয়েছে, তবে তৃণমূল নেতারা কাটমানি নেওয়ায় রাস্তার গুণগত মান ভালো হয়নি। ধনেখালির তাঁতশিল্পকে আধুনিক করা হবে। এর ফলে এই পেশায় নতুন প্রজন্ম আসবে। ধনেখালিতে উন্নয়ন বলতে যা হয়েছে, তা শুধু তৃণমূলের নেতাদের ও বিধায়কের পরিবারের।
শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রায় একই অভিযোগ করেন সিপিআই (এমএল) প্রার্থী রুমা আহেরী। বাম আমলে তিনি ছিলেন ধনেখালি-১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান। লকডাউনের পরে ঋণ মুক্তি আন্দোলনে যোগ দিতে বামেদের শরিক সিপিআই (এমএল)-এ সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন তিনি। রুমাদেবী শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, হাসপাতাল রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা নেই, নার্সিংহোমগুলি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করে না। নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখালে প্রথমেই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতে হচ্ছে। কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে। শাসকদলের একাংশ ভূমিদপ্তরে মাথা গলিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করছে। বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে গরিব মানুষের স্বার্থে কাজ করবে। তিন দলেরই দাবি, মানুষ তাদের প্রার্থীকেই আশীর্বাদ করবেন। কার মুখে ফুটবে জয়ের হাসি, সেদিকেই তাকিয়ে ধনেখালির বাসিন্দারা। নিজস্ব চিত্র।