


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: নতুন মুখ না পরাজিত মুখ, বিধানসভা নির্বাচনে এখন এই নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল এবার গত তিনবারের বিধায়ক নির্মল মাজির পরিবর্তে নতুন মুখ হিসাবে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিমল দাসকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এবং সিপিএম গত বিধানসভা নির্বাচনে যাঁদের প্রার্থী করেছিল, সেই চিরণ বেরা ও অশোক দলুইকেই প্রার্থী করেছে এবার। তবে নতুন মুখই হোক বা পুরানো, তিনজনই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
গত বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির চিরণ বেরাকে ২১ হাজার ২৬১ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। তৃণমূল পেয়েছিল ৯১ হাজার ৫০১টি ভোট, শতকরা হিসাবে ৪৯.৬ শতাংশ। অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছিল ৭০ হাজার ৪৯৮টি ভোট, শতকরা হিসাবে ৩৮.২ শতাংশ। সিপিএম প্রার্থী অশোক দলুই পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ২৯২টি ভোট, শতকরা হিসাবে ১০.৪ শতাংশ। যদিও গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩ ভোটে।
এবার তৃণমূল বর্তমান বিধায়ককে সরিয়ে বিমল দাসকে প্রার্থী করেছে। তবে রাজনীতিতে তিনি নতুন মুখ নন বলে দাবি করেছেন বিমলবাবু। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন হাওড়া জেলা পরিষদের সদস্য। বর্তমানে হাওড়া জেলা পরিষদের তিনটি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। বিমলবাবুর দাবি, আমার বিরুদ্ধে যাঁরা ভোটে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের কাছে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা সেভাবে নেই। তাছাড়া তাঁরা গতবারের পরাজিত প্রার্থী। সেবারই মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বিজেপি প্রার্থী চিরণ বেরার দাবি, গত নির্বাচনে মাত্র ১৪ দিন সময় পেয়েছিলাম। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে আমি এলাকার মানুষের পাশে ছিলাম। সুতরাং এবার জয়ের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আমার বিরুদ্ধে কে প্রার্থী, তা ভাবতে রাজি নই। বিজেপি জয়লাভ করবে বলেই দাবি করেন চিরণ বেরা। সিপিএম প্রার্থী অশোক দলুই বলেন, এবার আইএসএফের সঙ্গে আমাদের আসন সমঝোতা হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের জন্য মাত্র ১৩ দিন সময় পেয়েছিলাম। এবার মানুষের ভালো সাড়া পাচ্ছি। দল আমাকে প্রার্থী করেছে, এটা আমার কাছে বড়ো প্রাপ্তি। আমার কাছে চ্যালেঞ্জও বটে। এই চ্যালেঞ্জে আমি জিতবই।