Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কমানো হবে খাদ্যপণ্যের মূল্যভিত্তিও, দাম নিয়ন্ত্রণ করতে নয়া পদ্ধতি মোদি সরকারের

খুচরো মূল্যবৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ! তাই এবার অন্তত সরকারি পরিসংখ্যানে যেন মূল্যবৃদ্ধির হার লাগাতার বড়সড় আকারে উঠে না আসে, সেই চেষ্টা শুরু করেছে মোদি সরকার।

কমানো হবে খাদ্যপণ্যের মূল্যভিত্তিও, দাম নিয়ন্ত্রণ করতে নয়া পদ্ধতি মোদি সরকারের
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: খুচরো মূল্যবৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ! তাই এবার অন্তত সরকারি পরিসংখ্যানে যেন মূল্যবৃদ্ধির হার লাগাতার বড়সড় আকারে উঠে না আসে, সেই চেষ্টা শুরু করেছে মোদি সরকার। আর সেজন্য বদলে ফেলা হচ্ছে  খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণের পদ্ধতিকেই।  মূল্যবৃদ্ধি, জিডিপি, শিল্পোৎপাদন হার ইত্যাদি নির্ধারণ করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রক একটি  ভিত্তিবর্ষ ধার্য করে। এখনও পর্যন্ত সেই ভিত্তিবর্ষ হল ২০১৩। কিছুদিন আগেই তা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। স্থির হয়েছিল, নতুন ভিত্তিবর্ষ হবে ২০২৪। সেক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা— ২০২৪ সালের তুলনায় এখন কত দাম বাড়ছে, সেটা আর খুব বেশি আকারে প্রদর্শিত হবে না। কিন্তু এখানেই থামছে না মোদি সরকার। এবার নেওয়া হয়েছে আরও একটি সিদ্ধান্ত! খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যে মূল্যায়নের সূচক থাকে, সেখানে খাদ্যের মূল্যভিত্তিকেও কমিয়ে দেওয়া হবে। সাধারণ নিয়মে খুচরো পণ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি যা ক্রয় করা হয়, সেটি হল খাদ্য। তাই স্বাভাবিকভাবেই মূল্যবৃদ্ধি হার নির্ধারণেও সবথেকে বেশি মূল্যভিত্তি খাদ্যেরই, ৪৯ শতাংশ। সরকারি সূত্রের খবর, সেই ‘ওয়েটেজ’ কমিয়ে এবার করা হবে ৩৬ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হারকেও খাদ্যপণ্যের দাম আর আগের মতো প্রভাবিত করতে পারবে না।

Advertisement

আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে জিডিপি, শিল্পোৎপাদন হার এবং খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হারের নয়া ভিত্তিবর্ষ চালু করে দেওয়া হবে। এরপর মোট যত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হারকে গণনা করা হবে, তার মধ্যে খাদ্যের ওয়েটেজ কমে যাবে। ফলে খাদ্যের দর চড়া হলেও, অন্যান্য পণ্যের দাম যদি নিয়ন্ত্রণে থাকলে সরকারি পরিসংখ্যানে সামগ্রিক খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার কম দেখাবে। অর্থাৎ কাগজে কলমে মূল্যবৃদ্ধির হার কমানোর জন্য কার্যকর করা হচ্ছে এই নয়া স্ট্র্যাটেজি। যদিও অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, এটা নতুন কিছু নয়।  মূল্যবৃদ্ধির হার, জিডিপি, উৎপাদন হারের ভিত্তিবর্ষ আগেও পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রেপো রেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দফায় দফায়। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মজুতদারি বিরোধী অভিযানের হুমকি দেওয়া হয়েছে।  ২০২২ সাল থেকে লাগাতার বেড়ে চলেছে মূল্যবৃদ্ধির হার। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তখন থেকেই এরকম নানাবিধ ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করে বারবার দাবি করেছে যে, এবার কমবে মূল্যবৃদ্ধি। অথচ তা কমেনি। উল্টে রেপো রেটকে সাড়ে ৬ শতাংশের শিখরে নিয়ে গিয়ে মধ্যবিত্তের উপর ঋণ পরিশোধের মাসিক কিস্তির (ইএমআই) চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে  রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসকে পরোক্ষ চাপও দিয়েছিল মোদি সরকার। প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে জানিয়ে রেপো রেট কেন কমানো হচ্ছে না? কেন খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণের পদ্ধতির বা‌ই঩রে রাখা হবে না? যদিও সেই চাপে নত হননি শক্তিকান্ত। কিন্তু নতুন গভর্নর সঞ্জয় মলেহোত্রা দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই, প্রথম নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে কমিয়ে দিয়েছিলেন রেপো রেট। এমনকী সম্প্রতি এও দাবি করেছিলেন, মূল্যবৃদ্ধির হার নাকি ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের সরকারি রিপোর্টই জানাচ্ছে, আবার বেড়ে গিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির হার। অতএব এবার শেষ প্রয়াস পরিসংখ্যানগত সংস্কার, যাতে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আগুন সরকারি রিপোর্টে প্রতিফলিতই না হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ