


প্রীতেশ বসু,কলকাতা; রাজ্য পঞ্চম অর্থ কমিশনের মেয়াদ ফুরিয়েছে চলতি অর্থবর্ষের মার্চ মাসে। তার সাড়ে তিনমাস আগেই ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের গঠন করেছে রাজ্য। ষষ্ঠ অর্থ কমিশন কাজও শুরু করে দিয়েছে পুরোদস্তুর। বিষয়টি জানানো হয়েছে কেন্দ্রকে। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের ঠিক আগে রাজ্য অর্থ কমিশনের কাজকর্ম সম্পর্কিত তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি পাঠাল কেন্দ্র। এটা না জানালে কোনওভাবেই মিলবে না কেন্দ্রীয় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা। অর্থাৎ, ১০০ দিনের কাজ, আবাস এবং প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার বরাদ্দ আটকানোর পর এবার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা নিয়েও মোদি সরকার জটিলতা সৃষ্টির পথে নামল। মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির টাকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। শর্তাধীন এবং নিঃশর্ত তহবিল মিলিয়ে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা রাজ্যের। আর এই অর্থ বরাদ্দকে কেন্দ্র করেই বুধবার চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যকে। রাজ্য ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের কাজকর্ম এবং তাদের সুপারিশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে তাতে।
এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশসহ পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে কী উপহার দিতে আসছেন, তা এই চিঠিতেই স্পষ্ট। আসলে কেন্দ্রে একটি ‘জুমলার সরকার’ বসে রয়েছে। ওদের মুখে এক আর কাজে আর এক। মানুষ সবই দেখছেন। তাঁরাই এর বিচার করবেন।’
কর বাবদ আয়ের একটি অংশ থেকে সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করে অর্থ কমিশন। কেন্দ্রীয় স্তরে কাজ করছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন। তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালে। আর
রাজ্যে রয়েছে রাজ্য অর্থ কমিশন। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলি শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল রাজ্য অর্থ কমিশনের কাজকর্মের মানদণ্ড বিচার করা। অর্থাৎ, রাজ্যগুলিকে টাকা ছাড়ার আগে দেখে নেওয়া হয় তাদের অর্থ কমিশনের পারফরম্যান্স। এটা ভালো না-হলে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পেতে সমস্যা হয়। কিন্তু, রাজ্য সমস্ত তথ্য কেন্দ্রের কাছে ইতিমধ্যেই জমা দেওয়ায় নয়াদিল্লির এই চিঠিকে ঘিরে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থেকে যাচ্ছে। মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। কারণ, রাজ্য পঞ্চম কমিশনের শেষ অর্থবর্ষের (২০২৪-২৫) টাকাও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দ্রুত দেওয়ারও জোর চেষ্টা চলছে। ওইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদ্বীকে মাথায় রেখে গঠিত হয়েছে ষষ্ঠ অর্থ কমিশন। তার রিপোর্ট বা সুপারিশ দ্রুত পেশ করা হবে। রাজ্য অর্থ কমিশনের রিপোর্ট প্রথমে বিধানসভায় জমা দিতে হয়। তারপর সেটা জমা পড়ে অর্থদপ্তরে। এই সুপারিশ অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ করা হয় পঞ্চায়েত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের চিঠির জবাব দিতে রাজ্যের অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থদপ্তরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সূত্রের খবর, তবে এর জবাব কেন্দ্রকে দ্রুতই দেবে রাজ্য।