Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নলহাটি শহরের দুই বোনের নিরঞ্জন যাত্রায় অনুপস্থিত শব্দবাজির দাপট

শব্দবাজির দাপট ছিল না বললেই চলে। যার জেরে এবার নলহাটিতে দুই বোনের নিরঞ্জন যাত্রায় রেকর্ড ভিড় হল। চোখের জলে দুই বোনকে বিদায় জানালেন ভক্তরা।

নলহাটি শহরের দুই বোনের নিরঞ্জন যাত্রায় অনুপস্থিত শব্দবাজির দাপট
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শব্দবাজির দাপট ছিল না বললেই চলে। যার জেরে এবার নলহাটিতে দুই বোনের নিরঞ্জন যাত্রায় রেকর্ড ভিড় হল। চোখের জলে দুই বোনকে বিদায় জানালেন ভক্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে আবেগে ভাসলেন হাজার হাজার মানুষ। আবারও ফিরে আসবেন— এই আশায় ফের দিন গোনা শুরু হল নলহাটিবাসীর।

Advertisement

নলহাটি শহরের প্রাচীন দুর্গাপুজো বলতে দু’টি। একটি হল ধোপা‌পাড়ার সিংহবাহিনী, অপরটি হল তাঁর ছোট বোন কামারপাড়ার সিংহবাহিনী। এই দুই দেবীর নিরঞ্জন যাত্রাই পুজোর মূল আকর্ষণ। দশমীর রাতে দুই বোনকে কাঁধে করে বিসর্জনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই বোনের শোভাযাত্রা মিলত হয় দেবীর ৫১ পীঠের অন্যতম নলাটেশ্বরী মন্দিরে। সেখানে দুই বোনকে সিঁদুর পরিয়ে বরণ করা হয়। এরপর দুই দেবীকে কখনও দৌড়ে, কখনও নাচাতে নাচাতে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করা হয়। একে অপরকে রাস্তা ছাড়া নিয়ে দুই বোনের মধ্যে কার্যত প্রতিযোগিতা চলে। কোনও বাহারি আলো নয়, হ্যাজাকের আলোতেই দুই দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়। ফি বছর ভিড়ের মধ্যেই শব্দবাজি ফাটানো হতো। অনেকেই শব্দবাজির দাপটে আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নামতেন না। বাড়ির ছাদ থেকে দুই বোনকে দর্শন করতেন। বিশেষ করে বয়স্করা দরজা জানালা বন্ধ করে বসে থাকতেন। দুই বোনের নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় ব্যাপক শব্দবাজির ব্যবহার নিয়মে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এবার পুজোয় সেভাবে শব্দবাজি পোড়ানো হয়নি। নিরঞ্জন যাত্রাতেও ফাটানো হয়নি শব্দবাজি। ফলে এবার শহর তো বটেই, আশেপাশের গ্রাম থেকেও কাতারে কাতারে মানুষ নিশ্চিন্তে নিরঞ্জন যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। শব্দবাজি না ফাটানোয় খুশি এলাকার বাসিন্দারা। 
কিছু কিছু গ্রামে শারদ উৎসবে শব্দবাজি ব্যবহারের অভিযোগ এলেও নলহাটি শহরে এবার শব্দবাজির দাপট তেমন ছিল না। এজন্য শহরবাসীর সচেতনতাকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছেন পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁরা বলছেন, এই শহরের বাসিন্দারা এখন সচেতন। তাছাড়া শব্দবাজির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলেছে পুজোর আগে। কয়েকটি জায়গা থেকে শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এসব কারণেই এবার শব্দবাজির দাপট তেমন ছিল না বললেই চলে।  গভীর রাতে হাজরা পুকুরের দুই পাড়ে একসঙ্গে দুই বোনকে নিরঞ্জন দেওয়া হয়। ধোপাপাড়ার পুজোর বর্তমান বংশধর সেন্টু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নিরঞ্জন যাত্রাই দুই বোনের পুজোর মূল আকর্ষণ। যাঁরা পুজো চলাকালীন আসতে পারেন না, তাঁরা নিরঞ্জন যাত্রা দেখতে ভিড় জমান। এবার শব্দবাজি না ফাটায় মানুষের ঢল নেমেছিল দুই বোনের নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায়।  শুধু নলহাটি নয়, রামপুরহাট সহ মহকুমার বেশিরভাগ জায়গাতেই এবার শব্দবাজির দাপট তুলনামূলক কম ছিল। বদলে গ্রিনবাজির ব্যবহার যে ব্যাপক হয়েছে তাও নয়। জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, এবছর অধিকাংশ মানুষ পরিবেশবান্ধব উৎসবের দিকে ঝুঁকেছিলেন।  যা জনসচেতনতার ফল।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ