Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি খুইয়ে অথই জলে চাপড়ার শিক্ষক দম্পতি

বাবা ছিলেন সংবাদপত্র বিক্রেতা। স্বাভাবিকভাবেই সংসারে আর্থিক অনটন প্রথম থেকেই  ছিল। ছেলে স্কুলে চাকরি পাওয়ার পর সংসারের হাল ফেরে। এখন তাঁদের ভরা সংসার।

চাকরি খুইয়ে অথই জলে চাপড়ার শিক্ষক দম্পতি
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাবা ছিলেন সংবাদপত্র বিক্রেতা। স্বাভাবিকভাবেই সংসারে আর্থিক অনটন প্রথম থেকেই  ছিল। ছেলে স্কুলে চাকরি পাওয়ার পর সংসারের হাল ফেরে। এখন তাঁদের ভরা সংসার। ছেলের স্ত্রীও স্কুল শিক্ষিকা। কয়েক মাস আগে বাড়িতে ছোট্ট অতিথিও এসেছে। অতীতের অভাব অনটনের দিনগুলি ক্রমশ স্মৃতির পাতায় পিছনের দিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু, সুপ্রিম রায়ে সবকিছু উলটপালট হয়ে গেল। চাকরি গিয়েছে ছেলে ও বউমার।‌ যা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। পরিবারের মাথায় লোনের বোঝা,‌ বাড়ির নতুন অতিথির ভবিষ্যৎ, সবটাই যেন এক মুহূর্তে এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। এমনই ঘটনা ঘটেছে নদীয়া জেলার চাপড়ার একটি পরিবারের সঙ্গে। আগামী সোমবার মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেই দিকেই তাকিয়ে ওই পরিবার। 

Advertisement

চাপড়ার শ্রীনগরের বাসিন্দা ভোলানাথ সরকার। পেশায় তিনি সংবাদপত্র বিক্রেতা ছিলেন। তাঁরই ছেলে ভাস্কর সরকার চাপড়া ব্লকের রানাবন্ধ সেন্ট মেরি হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক।‌ ২০১৯ সাল থেকে তিনি শিক্ষকতা করছেন। ভাস্করের স্ত্রী সুমিতা দে ভীমপুর থানার শিমুলিয়া হাই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষিকা।‌ দু’জনেই ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। সেইমতো বিগত ছ’বছর ধরে ভোলানাথবাবুর ছেলে ও বউমা  স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।‌ চাকরি পাওয়ার বছরেই তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁদের সাত মাসের কন্যা সন্তান রয়েছে। 
জানা গিয়েছে, ভাস্করের বাবা ভোলানাথবাবু ২০১৭ সালের পর থেকে সংবাদপত্র বিক্রি বন্ধ করে দেন। কারণ সেই সময় তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তার ঠিক দু’বছরের মাথায় স্কুলে চাকরি পান তাঁর ছেলে। তারপর থেকে সংসারের টালমাটাল পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিন্তু, চাকরি নিয়ে মামলার রায় কী হবে, তা নিয়ে একটা ভয় সর্বদাই কাজ করত। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম রায়ে ছেলে ও বউমার চাকরি যাওয়ায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে ভোলানাথবাবুর। যদিও বোর্ড থেকে কোনও নির্দেশিকা না আশায় ওই দম্পতি স্কুলে যাচ্ছেন।‌ শনিবার দিনও তাঁরা ক্লাস করান।
নতুন করে পরীক্ষা হলে তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে আশঙ্কা থাকছেই। কারণ ১০ বছর আগে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেওয়া আর তিন মাসের মধ্যে আবার প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে বলেই মনে করছে শিক্ষামহল। 
এনিয়ে ভাস্করবাবু বলেন, এটা আমাদের কাছে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ব্যাপার। ২০১৬ সালে যখন আমরা পরীক্ষা দিই, তখন আমাদের উপর সংসারের চাপ ছিল না। সারাদিন পড়াশোনা নিয়ে থাকতাম। এখন সংসারের ভার নিতে হয়েছে। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরাও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।‌ ইএমআই রয়েছে। বাড়িতে সাত মাসের মেয়ে রয়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের কাছে এটা একটা বড় ধাক্কা। ভাস্করবাবু আরও বলেন, ‘আশা করছি আমরা রিভিউ পিটিশনে যাব। কোনও না কোনও পথ বের হবে। স্কুলই আমাদের দ্বিতীয় পরিবার। তাই ভালোবেসেই আমরা স্কুলে যাচ্ছি।’

সম্পর্কিত সংবাদ