Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

স্বামী বিবেকানন্দ (১১/০৫/২৫)

Swami Vivekananda (11/05/25)

স্বামী বিবেকানন্দ (১১/০৫/২৫)
  • ১১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বামীজীর সঙ্গে হিমালয় ভ্রমণ নিবেদিতার কাছে কেবল আনন্দদায়ক নয়, শিক্ষাপ্রদও। কোনও দেশের প্রকৃত পরিচয় পুস্তকের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। স্বামী বিবেকানন্দ সমগ্র ভারত পর্যটন করে এবং জনসাধারণের সংস্পর্শে এসে প্রকৃত ভারতকে চিনেছিলেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, সমগ্র ভারতের অখণ্ড রূপটি তাঁর কাছে ধরা পড়েছিল। নিবেদিতা স্বামীজীর কাছ থেকে সেই অখণ্ড ভারতকেই ভালোবাসতে শিখেছিলেন। কিন্তু তার পূর্বে তাঁর এক কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল।

Advertisement

১৩ মে ভোর পাঁচটায় সকলে কাঠগোদাম পোঁছান। নৈনীতাল হয়ে তাঁরা আলমোড়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। পথ চলতে চলতে রাত্রি হয়ে গেল। লোকজন আগে আগে মশাল ও লণ্ঠন নিয়ে চলেছে। পাহাড়ের পথ উঁচু-নিচু, অনবরত ঘুরে ঘুরে চলেছে। নানারকম ফুলের সুগন্ধ ভেসে আসছিল। গভীর নির্জনতা। মাথার উপরে বহুদূরে নক্ষত্রগুলি মিট-মিট করছে। চারিদিকে বিস্তৃত গম্ভীর পর্বতমালা। নিবেদিতা ও সকলেই খুব উপভোগ করলেন। সেদিন রাত্রে তাঁরা পাহাড়ের পাশে অবস্থিত ডাকবাংলোয় আশ্রয় গ্রহণ করে পরদিন আলমোড়ায় উপস্থিত হলেন।ইংল্যান্ডে এক ইংরেজ দম্পতি স্বামীজীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন; মিঃ ও মিসেস সেভিয়ার। তাঁরাও স্বামীজীর সঙ্গেই ভারতবর্ষে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য, ভারতে বসবাস ও স্বামীজীর কাজে সাহায্য করা। আলমোড়ায় তাঁরা আগেই আসেন। স্বামীজী তাঁদের আতিথ্য গ্রহণ করলেন। নিবেদিতা ও তাঁর সঙ্গিনীগণের বাসস্থানের ব্যবস্থা হল দূরে এক বাংলোয়।আলমোড়ায় নিবেদিতার শিক্ষা নূতন করে আরম্ভ হল। প্রতিদিন সকালে সকলেই বারান্দায় অথবা বাগানে বসতেন। স্বামীজী নানা বিষয়ে অক্লান্তভাবে বর্ণনা করে যেতেন। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মূলকথা ছিল, প্রাচ্য জীবনযাত্রা, তার আদর্শ ও পাশ্চাত্যের সঙ্গে তার পার্থক্য। নিবেদিতার ছিল অপূর্ব ধারণাশক্তি, তার উপর ছিল তাঁর লেখবার ক্ষমতা। স্বামীজী যখন যে-বিষয়ে আলোচনা করতেন, নিবেদিতা গভীর মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন এবং সংক্ষেপে নোটবুকে টুকে রাখতেন। পরে ওই সংক্ষিপ্ত বিবরণ সহায়ে তিনি ‘The Master As I Saw Him’ লিখেছিলেন। পুস্তকখানি বিদ্বৎসমাজে বিশেষ স্বীকৃতিলাভ করে। আলমোড়ায় নিবেদিতার যে-শিক্ষা আরম্ভ হয়, তা প্রথমে তাঁর কাছে খুব ক্লেশকর ছিল। জীবনের এই অধ্যায়টি একদিকে ছিল কঠোর ও দুঃখপূর্ণ আবার বিশেষ আনন্দের। 
প্রব্রাজিকা অমলপ্রাণা প্রকাশিত ‘ভগিনী নিবেদিতা’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ