শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: রাজ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ‘সন্দেহজনক’ তালিকায় থাকা অন্তত ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি এবার বুথ লেভেল অফিসারদেরই (বিএলও) আপলোডের নির্দেশ দেওয়া হল। সূত্রের খবর, রাজ্যে যে গতিতে এসআইআরের শুনানি চলছে, তাতে মোটেও খুশি নয় নির্বাচন কমিশন। তাদের আশঙ্কা, এই গতিতে কাজ চললে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে অনেকটা সময় লেগে যাবে। তাই দ্রুত শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আর সেই নির্দেশিকা আসার পরই সন্দেহজনকের তালিকায় থাকা অন্তত ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি সাতদিনে বিএলওদের আপলোড করার নির্দেশ।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা হয় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ। কমিশন জানায়, ইনিউমারেশন ফর্মে যাঁদের বাবা বা আত্মীয়-স্বজনের নামে গরমিল রয়েছে, তাঁদের সন্দেহজনকের তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়াও বাবা-মায়ের সঙ্গে যেসব ভোটারের বয়সের ফারাক ১৫ কিংবা ৫০ বছর, তাঁরাও সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত। পাশাপাশি একই বাবার ছয় সন্তান কিংবা ৪০ বছর বয়সে ঠাকুরদা হয়েছেন, এমন ব্যক্তিকে আত্মীয় দেখানো ভোটারও আছেন তালিকায়।
প্রথম পর্যায়ে বাবা বা আত্মীয়-স্বজনের নামে গরমিল থাকা সন্দেহজনক ভোটারদের নথি বিএলওদের অ্যাপ মারফত সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। এই কাজ শেষ হওয়ার পর কমিশন জানায়, ৪২ লক্ষ ভোটার আর সন্দেহজনকের তালিকায় নেই। ফলে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা নেমে আসে ৯৪ লক্ষের কাছাকাছি। এই ভোটারদের শুনানি হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই নামের গরমিল ছাড়া অন্যভাবে চিহ্নিত প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি এবার বিএলওদের আপলোডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ সেরে ফেলতে বলা হয়েছে বিএলওদের। কমিশনের এক আধিকারিক জানান, এইসব ভোটাররা বিএলও মারফত নথি দেওয়ার পর তা গ্রহণযোগ্য মনে হলে, তাঁদের শুনানির প্রয়োজন হবে না।
কিন্তু এই পদক্ষেপের নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি? আসলে ১৮ মে’র মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের গোটা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলকভাবে শেষ করতে হবে। বর্তমানে যে সংখ্যক শুনানি বাকি, তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে কমিশন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে গেলে ভোটের নির্ঘণ্ট নির্ধারণে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। তাই শুনানি প্রক্রিয়া যাতে সংকুচিত করা যায়, তাই এই পদক্ষেপ।
যদিও বিএলওদের এই ভোটারদের থেকে যে নথি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে, তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক ভোটার বাবা অথবা যে ব্যক্তিকে ফর্মে আত্মীয় দেখিয়েছেন, তাঁর আধার, প্যান কার্ড কিংবা বার্থ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে ভোটারের নিজের নথি। এসব কিছু না থাকলে ভোটারকে একটি মুচলেকা দিতে হবে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে যেসব ভোটার আধার, প্যান বা তার বদলে মুচলেকা দেবেন, তাদের নথি গ্রহণযোগ্য হবে তো?