Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাসপেন্ড বিজেপি বিধায়ক, মার্শাল দিয়ে বের করা হল আরও দু’জনকে

শুরুর প্রথম দিনেই তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভার অধিবেশন। হইহট্টগোল করা, কাগজ ছিঁড়ে ফেলা, অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠল বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে। এ

সাসপেন্ড বিজেপি বিধায়ক, মার্শাল  দিয়ে বের করা হল আরও দু’জনকে
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুরুর প্রথম দিনেই তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভার অধিবেশন। হইহট্টগোল করা, কাগজ ছিঁড়ে ফেলা, অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠল বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে। এজন্য কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বিধানসভার অধিবেশন। এদিন অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে রাজ্য সরকারের ‘সাপ্লিমেন্টারি গ্রান্টস’ বা অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের উপর দু’ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়। অংশ নেন তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকার, দেবব্রত মজুমদার, মহম্মদ আলি প্রমুখ। বিজেপি বিধায়করাও বক্তব্য পেশ করেন। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিজেপি সদস্য হিরণ চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য রাখার সময়। অভিযোগ ওঠে, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বক্তব্য রেখে যাচ্ছিলেন তিনি। তখন হিরণের মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে যেন রণহুঙ্কার ছাড়েন তিনি! এমনকী বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন হিরণ। হিরণের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। পাল্টা হিরণও বলেন, আমি কীভাবে বলব, সেটা আপনিও ঠিক করে দিতে পারেন না।
সব মিলিয়ে অধিবেশন কক্ষের পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা বেধে যায়। তখন দু’পক্ষকেই সংযত হতে বলেন অধ্যক্ষ। কিন্তু বিজেপি সদস্যরা সেখানে হট্টগোল করতে থাকেন। স্লোগানসহ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। মূলত শঙ্কর ঘোষ ও মনোজ ওঁরাওকে সংযত ও শান্ত হওয়ার জন্য অধ্যক্ষ বারবার নির্দেশ দেন। ঠিক তখনই দেখা যায় বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন কাগজ ছিঁড়ে অধিবেশন কক্ষে ছুড়তে থাকেন। তখন অধ্যক্ষ দীপককে সাসপেন্ড করা হয়। আর মার্শালকে বলা হয়, শঙ্কর ও মনোজকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য। অধ্যক্ষের নির্দেশ পেয়ে মার্শাল দুই বিজেপি সদস্যকে বের করে দেন। পরে অধ্যক্ষ বলেন, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং অসংসদীয় শব্দ প্রয়োগের জন্য বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগেও বিরোধী দলনেতাসহ একাধিক বিধায়ককে সাসপেন্ড করেছেন অধ্যক্ষ। তার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলে বারুইপুরে অভিযানের কর্মসূচি নেওয়া হবে বিজেপির পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য, বারুইপুর পশ্চিম বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র। ১৯ মার্চ সেখানে কর্মসূচি নিচ্ছে বিজেপি। একথা শুনে বিমানবাবু বলেন, আমার এলাকায় বিজেপি নেতারা যাবেন, এতে আমি খুশি। প্রয়োজনে মঞ্চ বেঁধে, মাইকও লাগিয়ে দেব। তবে লোক তো দিতে পারব না। সেটা বিজেপি নন্দীগ্রাম থেকে নিয়ে এলে ভালো হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ