


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এক দশকের বেশি সময় পর ফের সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের উপর সমীক্ষার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বাড়ির সদস্যরা কী করেন, কবে থেকে মাছ ধরার কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা, জীবিকার জন্য অন্য কোনও কাজ করেন কি না—এরকম নানা তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই রাজ্যে পূর্ব মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়ায় হবে এই সমীক্ষা। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন উপকূলবর্তী জেলাতে চলবে এই কাজ। সমীক্ষার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেরিন ফিশারিজ সেন্সাস ২০২৫’।
কেন্দ্রীয় মৎস্য মন্ত্রক থেকে রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়ে এই সমীক্ষার বিষয়ে জানানো হয়েছে। সেই মতো জেলাগুলি প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য কী? রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, জেলাগুলিতে ঠিক কত সংখ্যক সামুদ্রিক মৎস্যজীবী আছেন, সেই সংক্রান্ত তথ্যপঞ্জি তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্র। পরে তাঁদের জন্য কোনও প্রকল্প ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করছেন অনেকে। তবে মন্ত্রকের তরফে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘সেন্ট্রাল মেরিন ফিশারিজ ইনস্টিটিউট’কে। তাদের তত্ত্বাবধানেই চলবে গোটা কর্মকাণ্ড। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার জন্য পঞ্চায়েতস্তরে নিযুক্ত করা হবে ‘ইনিউমারেটর’। এঁরাই মূলত সমীক্ষক। তাঁদের ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ এবং স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হতে হবে। তবে কোন ব্লকে কত সমীক্ষক কাজ করবেন, সেটা নির্ভর করবে সেখানে মৎস্যজীবীর আনুমানিক সংখ্যার উপর। যেমন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৭টি উপকূলবর্তী ব্লক আছে। এর মধ্যে কাকদ্বীপ, নামখানা কিংবা সাগরে সামুদ্রিক মৎস্যজীবীর সংখ্যা বেশি। তাই সেখানে বাকি জায়গার চেয়ে বেশি ইনিউমারেটর নেওয়া হবে। সমীক্ষকদের নেওয়া হয়ে গেলে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবেন শীর্ষ আধিকারিকরা। এরপরই সমীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাবে। চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।