


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বর্ধমান: এবার শুধু বুথের মধ্যেই নয়, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ১০০ মিটার পর্যন্ত গতিবিধি ঘরে বসেই নজরদারি করবে নির্বাচন কমিশন। এতদিন বুথের মধ্যে ভোট প্রক্রিয়া ঠিকমতো চলছে কি না, তা নজরদারি করতে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল কমিশন। ওয়েব কাস্টিংয়ের ফলও মিলেছে হাতেনাতে। আর এবার আরও একধাপ এগিয়ে উপ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের বাইরের গতিবিধিও নজরদারি করবে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও খবর, পাঁচ রাজ্যের উপনির্বাচন দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবেই এই ওয়েব কাস্টিং শুরু করা হবে। পরবর্তীতে আগামী নির্বাচনগুলিতে সর্বত্র এই ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনগুলিতে ভোটকেন্দ্রের বাইরের ঝামেলা নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনের দপ্তরে। ফলে এই ব্যবস্থা সফল হলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তা আরও বেশি করে কার্যকরী হবে বলে মনে করছেন কমিশন কর্তারা।
এদিকে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনে কংগ্রেস কি সিপিএমের হাত ধরবে? এই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক মহল। এমনই আবহে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর। তবে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের দিকেই বল ঠেলে দিয়েছেন তিনি। আবার অধীরও মুর্শিদাবাদের জোট রাজনীতির সমীকরণ তুলে ধরেছেন। ১৯ জুন নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনের উপ নির্বাচন। মঙ্গলবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা— আসন্ন উপ নির্বাচনে সিপিএম-কংগ্রেসের জোট হবে কি না? এদিন বর্ধমান জেলা কার্যালয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সুর ছিল বেশ নরম। তিনি বলেন, অধীরবাবুর সময় রাজ্যে আমাদের সমঝোতা হয়েছিল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও আসন সমঝোতা হয়েছে। এখন অধীরবাবু নেতা নন। কংগ্রেসের রাজ্য প্রধান ও আইসিসি নেতারা কোন পথে এগবেন, তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
ফলে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কোর্টে কার্যত বল ঠেলে দিয়েছেন সেলিম। এব্যাপারে শুভঙ্করের বক্তব্য, প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে অন্য দলের কেউ আমার সঙ্গে কথা বলতেই পারেন। অন্যদিকে বুধবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক আছে। সেখানে প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সেলিম বলেছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলব। কালীগঞ্জে সিপিএমের প্রার্থী হলে ভালো লড়াই হবে।