Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের নিশানায় এজেন্সি, তদন্তকারীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া উচিত

রাজনৈতিক পক্ষপাত, সরকারি আজ্ঞাবাহী, দাবির সঙ্গে চার্জশিটের ফারাক, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা—এমন অভিযোগ বারবার ওঠে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে। বিশেষত ভোটের আগে মাথাচাড়া দেয় ‘অতিসক্রিয়তা’।

সুপ্রিম কোর্টের নিশানায় এজেন্সি, তদন্তকারীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া উচিত
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক পক্ষপাত, সরকারি আজ্ঞাবাহী, দাবির সঙ্গে চার্জশিটের ফারাক, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা—এমন অভিযোগ বারবার ওঠে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে। বিশেষত ভোটের আগে মাথাচাড়া দেয় ‘অতিসক্রিয়তা’। বহু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও সিবিআই সহ এজেন্সিগুলির তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। এটা যে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটা প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে, সেই ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্টই। বৃহস্পতিবার ছিল প্রাক্তন পুলিসকর্তা তথা সিবিআই আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের সংক্রান্ত দু’দশক পুরনো একটি মামলার শুনানি। সেখানে বিচারপতি পঙ্কজ মিথল ও বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থা বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই যাঁরা তদন্ত করেন, তাঁদেরও এখন তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।’ এখানেই থেমে থাকেনি শীর্ষ আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চের বার্তা, ‘শুধু সুবিচার দিলেই হবে না। আইনব্যবস্থা যে কাজ করছে, ঘটনাপ্রবাহ দেখে মানুষ যেন তা বুঝতে পারেন।’ 

Advertisement

২০০১ সালে সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর নীরজ কুমারের বিরুদ্ধে তথ্য লোপাট ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছিল। দিল্লির প্রাক্তন পুলিস কমিশনার পদেও ছিলেন নীরজ। তাঁর পাশাপাশি ওই মামলায় নাম জড়িয়েছিল আর এক সিবিআই আধিকারিক বিনোদ কুমার পান্ডের। ২০০৬ সালে দিল্লি হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁদের দু’জনের নামে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নীরজ ও বিনোদ। ২০১৯ সালে মার্চে সেই মামলাও খারিজ করে দেয় আদালত। তারপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন দুই সিবিআই আধিকারিক। সেখানেও তাঁদের আর্জি খারিজ করল দুই বিচারপতির বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট প্রায় আড়াই দশক পুরনো এই মামলায় এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে। সেইসঙ্গে জানিয়েছে, ‘দিল্লি পুলিসের স্পেশাল সেল তদন্ত করবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বা তার থেকে উচ্চ পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বেই তদন্ত হবে। কোনও গাফিলতি চলবে না। অনেক পুরনো মামলা। তাই সম্ভব হলে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।’ দুই আধিকারিককে বিচারপতিদের নির্দেশ, ‘তদন্তকারী অফিসারকে সবরকমভাবে সাহায্য করতে হবে। তদন্তে অংশ নিয়ে তাঁরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পাবেন। তবে খুব দরকার না পড়লে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছে আদালত।’  
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, ২০০০ সালে এই অভিযোগ উঠেছিল। তারপর দু’দশকেরও বেশি কেটে গিয়েছে। এখনও তদন্ত শুরু হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, এতে সিবিআই আধিকারিকদেরও নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাই তদন্ত না হলে তা ন্যায়বিচারের নিরিখেও যথাযথ নয়। এদিন পুলিস প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেছে শীর্ষ আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চ কড়া ভাষায় জানিয়েছে, অভিযুক্ত হিসেবে সিবিআই আধিকারিকরা থাকার কারণেই এফআইআরে গড়িমসি করেছে পুলিস। 
সম্প্রতি তদন্তকারী সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই বলবীর শর্মা নামে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এক ডিএসপিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মে মাসে মধ্যপ্রদেশের নার্সিং দুর্নীতির তদন্তে যাওয়া অন্তত দুই আধিকারিককে গ্রেপ্তার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এই শ্রেণির অফিসারদের বড়সড় ধাক্কা। পাশাপাশি, শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণে বিরোধীরাও খানিক স্বস্তি পাবেন। তদন্তকারী অফিসারও যদি তদন্তের আওতায় আসেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির উপর কেন্দ্রের ছড়ি ঘোরানো কমবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ