সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় কারও নাম থাকবে কি না, সেব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। কোনো মাইক্রো অবজার্ভার নয়। তাঁরা স্রেফ ইআরওদের কাজে সহযোগিতা করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আগুনে সওয়াল’কে মান্যতা দিয়েই সোমবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় এই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আরও জানালেন, নামের ভিন্ন বানান বা ভুল শুধরানোর জন্য নথি পরীক্ষা করতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে ইআরওদের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে যাবে বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। নিয়ম অনুযায়ী, ইআরওর কাজ শেষ হলে তা মূল্যায়ন করার কথা ডিইওর। তারপর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর সব কিছু খতিয়ে দেখবে। সেই কাজ মিটলে তবেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পালা। ফেব্রুয়ারি মাস শেষের আগে যা কার্যত কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এছাড়াও শীর্ষ আদালত এদিন ফের স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকায় নাম বজায় রাখতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড এবং শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য। নির্বাচন কমিশনকে তা গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে এদিনের সুপ্রিম-নির্দেশে ‘বাংলার অগ্নিকন্যা’র জয়ই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী হয়েও সুপ্রিম কোর্টে নিজের দায়ের করা মামলায় নিজে সওয়াল করেছিলেন মমতা। সেই কাজ নিয়ে এদিন আপত্তি জানায় অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা। যদিও তাদের আবেদন উড়িয়ে দিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘এতে সমস্যা কী? গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাসেরই তো এটা প্রমাণ। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’
গত বুধবার শীর্ষ আদালতে মোট ১৪টি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা। তার মধ্যে অন্যতম—মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিযুক্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বেআইনিভাবে ভোটারদের নাম কেটে দিচ্ছে। তখন রাজ্যকে এই পদের জন্য উপযুক্ত অফিসারদের নাম জমার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার মূল আবেদনকারী মোস্তারি বানু। ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম উপদেষ্টা মনোজ পন্থও। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশমতো কমিশনকে পর্যাপ্ত অফিসার দিয়েছে রাজ্য সরকার। যদিও তাঁরা আদৌ মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে কাজের যোগ্য কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন কমিশনের আইনজীবী ডামা শেষাদ্রি নাইডু। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকারের ওই ৮ হাজার ৫০৫ জন অফিসার মঙ্গলবার (আজ) বিকাল পাঁচটার মধ্যে ডিইও অথবা ইআরওর কাছে গিয়ে কাজে যোগ দেবেন। তারপর কমিশন যাচাই করবে তাঁদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণও দেওয়া যাবে।
এদিন শুনানিতে কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বলেন, ‘আপনাদের সফটওয়্যার তো অত্যন্ত জটিল। বাংলায় নামের মধ্যিখানে অনেকেই কুমার লেখেন। অথচ আপনাদের সফটওয়্যার সেটি ধরতেই পারছে না। নোটিস পাঠাচ্ছে। এটা ঠিক নয়!’ এসআইআর পর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে এদিন সওয়াল করে কমিশন। তার ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ব্যক্তিগত হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, ‘এসআইআরের কাজে কাউকেই অন্তরায় হতে দেব না।’ ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।