


নয়াদিল্লি: সরকারি কর্মীদের একাংশের ফাঁকি দেওয়ার অভ্যাসের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই অভিযোগ যদি ওঠে উচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে! বুধবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর বিষয়। শীর্ষ আদালত বলেছে, হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারপতি কাজের মধ্যে অনাবশ্যকভাবে বিরতি নেন বলে অভিযোগ আসছে। এজন্য বিচারপতিদের কাজকর্ম অডিটের ভাবনার কথাও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডের চার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তর দায়ের করা পিটিশন থেকে। ওবিসি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত ওই মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জানান, শুনানি শেষ হয়ে গেলেও গত দু’-তিন বছর ধরে রায় ঘোষণা থমকে রয়েছে হাইকোর্টে। একাধিক মামলায় শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এমন দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। এর পরেই বিচারপতিদের কাজকর্ম অডিট করে দেখা প্রয়োজন বলেও জানায় ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানায়, ‘কিছু বিচারপতি অত্যন্ত পরিশ্রমী। কিন্তু অনেকেই কখনও কফিপান বা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য, কখনও অন্য কোনও কারণে প্রায়শই দীর্ঘ বিরতি নেন। দুপুরের খাওয়ার সময় পর্যন্ত কেন তাঁরা একটানা কাজ করতে পারেন না? হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে আমাদের কাছে ভূরি ভূরি অভিযোগ আসছে। গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কীভাবে কাজ করছি, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিচারপতিদের কাজকর্ম অডিট করার সময় এসে গিয়েছে।’ শীর্ষ আদালত আরও জানায়, বিচারাধীন ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমন ধারণা যাতে কখনই না তৈরি হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন।