Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রচার-সৌজন্যের রবিবার, সকালে জনসংযোগ, বিকেলে সংগঠন

হাতে সাকুল্যে আর মাসখানেক। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলের প্রার্থী হিসাবে যাঁদের নাম ঘোষণা হয়েছে, তাঁরা প্রচারে নেমে পড়েছেন পুরোদমে।

প্রচার-সৌজন্যের রবিবার, সকালে জনসংযোগ, বিকেলে সংগঠন
  • ২৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে সাকুল্যে আর মাসখানেক। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলের প্রার্থী হিসাবে যাঁদের নাম ঘোষণা হয়েছে, তাঁরা প্রচারে নেমে পড়েছেন পুরোদমে। আর কে না জানে, পায়ে হেঁটে জনসংযোগ বা সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে ভোট-প্রস্তুতির জন্য মোক্ষম দিনটি হল রবিবার। ছুটির দিন হওয়ায় কর্মজীবী সিংহভাগ মানুষ বাড়িতেই থাকেন। অনেকে পছন্দের প্রার্থীর প্রচারের সঙ্গী হন। তেমনই শাসক-বিরোধী সব পক্ষের প্রচারে জমজমাট হয়ে থাকল রবিবার। জনসংযোগের পাশাপাশি ভোটযুদ্ধের আবহে সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে কর্মিসভা সারলেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী। প্রচার চলাকালীন বিবদমান প্রার্থীদের দেখা হলে সৌজন্য জানাতে ভোলেননি কেউ।

Advertisement

বাংলার ভোটযুদ্ধে এবার ঘাসফুলকে টেক্কা দিয়ে পদ্ম ফোটাতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। সেই লক্ষ্যে তারা প্রথম থেকে প্রচারের ঝাঁঝ তুঙ্গে রাখতে চাইছে। শাসক ও প্রধান বিরোধীর এই রেষারেষিতে ‘শূন্য’ কাটানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে লড়ছে বামেরা। শাসক দলের দুর্নীতি এবং নাগরিক পরিষেবায় খামতি তাদের প্রচারের হাতিয়ার। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোণঠাসা করার বার্তাও দিচ্ছে তারা। 
এই আবহে টক্কর ভুলে সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল মানিকতলা বিধানসভার কাঁকুড়গাছি এলাকায়। এদিন সকালে প্রচারে বেরিয়ে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা তথা এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক সুপ্তি পান্ডে। কাঁকুড়গাছির একটি চায়ের দোকানে প্রচার চালানোর সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের। তিনিও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ সারছিলেন। বর্তমানে তাঁরা একে অপরের বিরোধী হলেও রাজনীতির ময়দানে সুপ্তিদেবীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্য রয়েছে তাপসের। সেই সূত্রেই একে অপরকে সৌজন্যের হাত বাড়িয়ে দেন। হালকা মেজাজে সুপ্তি বলেন, ‘তাপস, তোমায় আমি কচুরি খাওয়াতে পারলাম না। শেষ হয়ে গিয়েছে।’ তাপসবাবুর তাৎক্ষণিক জবাব, ‘কচুরি না হোক বৌদি, তোমার ভোট যেন আমি পাই।’ এই মৃদু হাস্যরসের রেষ নিয়েই দুই প্রার্থী যে যাঁর প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। 
এদিন সকালে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার সারেন তৃণমূল প্রার্থী সন্দীপন সাহা। কাউন্সিলার হিসাবে এসব এলাকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আগে থেকেই। সেই যোগসূত্র এদিন ঝালিয়ে নিতে দেখা যায় তাঁকে। কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রে এদিন বিরাট রোড শো করেন তৃণমূল প্রার্থী অতীন ঘোষ। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। প্রচার-যুদ্ধে তাঁকে চাপে রাখলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রীতেশ তেওয়ারি। একই রাস্তা দিয়েই হেঁটে মানুষের কাছে পৌঁছে যান রীতেশ। সকালে দমদমের সবজি বাগান অঞ্চলে প্রচার সারেন কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তা। 
উত্তর কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী তথা মন্ত্রী শশী পাঁজা প্রচার করেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামবাগান, রমেশ দত্ত স্ট্রিট, সিমলা স্ট্রিট, রামদুলাল সরকার রোড সব বিস্তীর্ণ এলাকায়। দক্ষিণে টালিগঞ্জ বিধানসভার ব্রহ্মপুর স্ট্রিম লন্ড্রি থেকে বিরাট মিছিল করেন তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস।  জনসংযোগের পাশাপাশি সংগঠনে নজর দিয়েছেন শাসক থেকে বিরোধী প্রার্থীরা। এদিন সন্ধ্যায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে কর্মিসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস এদিন সকালে কালীঘাট রোড, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ চালান। সন্ধ্যায় তিনি চেতলার ৮২ নম্বর ওয়ার্ড পরিক্রমা করেন। সকালে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগে নেমেছিলেন সিপিএমের তরুণ মুখ আফরিন বেগম (শিল্পী)। সন্ধ্যায় দলের কর্মীদের নিয়ে সভা করেন তিনি। বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে এদিন প্রচারে নামেন জোড়াফুলের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। এরপর ১১৯ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মীদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। কসবা বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী দীপু দাস সকালে বাবুবাগান রেল বস্তিতে জনসংযোগ সারেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ