


নয়াদিল্লি: যুদ্ধের ময়দানে আগামীদিনে ভারতের নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে ‘শেষনাগ-১৫০’। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এই ‘আত্মঘাতী’ ড্রোন। তা অনায়াসে ১০০০ কিমি পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। একটানা ৫ ঘণ্টা আকাশে ওড়ার ক্ষমতাও রয়েছে এটির।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন বদলাচ্ছে। কম খরচে তৈরি ঘাতক অস্ত্র ব্যবহারেই বিশেষ জোর দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী হল ড্রোন।দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলে খরচও কম। প্রথমবার সস্তায় ড্রোন তৈরি করে নজির গড়ে ইরান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি শাহিদ-১৩৬ বিভিন্ন যুদ্ধে ব্যবহার করেছে ইরান। আমেরিকার হাতে রয়েছে লুকাস। যুদ্ধক্ষেত্রে দুই দেশই ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে কম খরচে তৈরি এধরনের অস্ত্র। পিছিয়ে নেই ভারতও। বেঙ্গালুরুর প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ সংস্থা ‘নিউস্পেস রিসার্চ টেকনোলজি’ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘শেষনাগ-১৫০’ নামে ড্রোন তৈরি করেছে। এক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে এই ড্রোন ওড়ানো হয়। তবে অপারেশন সিন্দুরের আবহে ড্রোন যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে যায়। দূরপাল্লার ড্রোন তৈরিতে বিশেষ নজর দেয় সেনা। বিশেষ করে আত্মঘাতী ‘সোয়ার্ম ড্রোন’। জানা যাচ্ছে, শেষনাগ-১৫০ এই বিশেষ সোয়ার্ম আক্রমণে সক্ষম। অর্থাৎ মৌমাছির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে একযোগে গিয়ে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলবে। ২৫ থেকে ৪০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই ড্রোন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোনটির আসল শক্তি এর নিয়ন্ত্রণ অ্যালগরিদমে। উন্নত ‘মাদার-কোড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদানপ্রদান ও লক্ষ্য নির্বাচন করতে পারবে। ভবিষ্যতে এতে ভিজ্যুয়াল নেভিগেশন প্রযুক্তিও যুক্ত হতে পারে। যাতে স্যাটেলাইট সংকেত বিঘ্নিত হলেও অভিযান চালানো যায়। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, আধুনিক যুদ্ধে কম খরচের, স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে। সেক্ষেত্রে ‘শেষনাগ-১৫০’ বড়োসড়ো ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।