


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: জলমগ্ন পরিস্থিতিতে ভোগান্তি অব্যাহত খানাকুলের বাসিন্দাদের। রবিবারও খানাকুলের বন্দরে রূপনারায়ণ নদের জলস্তর চরম বিপদ সীমার গা ঘেঁষেই বইছে। ফলে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। জমা জলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খানাকুল-২ ব্লকের নিচু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে সেইসব জায়গায় বিনামূল্যে নৌকা ও ট্রাক্টর পরিষেবা চালু করা হয়েছে। খানাকুল-২ বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, মাড়োখানা, জগৎপুর, রাজহাটি-১ প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকাগুলি জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এখনও কোনও ত্রাণ শিবির খুলতে হয়নি। নতুন করে বৃষ্টি না হলে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। দুর্গতদের খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মাস খানেকেরও বেশি সময় ধরে খানাকুলের নিচু এলাকার বসবাসকারী বাসিন্দারা জমা জলের জেরে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। মাঝে কয়েকদিনের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ফের অতি বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে নতুন করে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এমনকী, কৃষি ক্ষেত্রেও ফের ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। কিছুদিন আগে আমনের জন্য বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু, মাঠে জল জমে যাওয়ায় তা নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিদপ্তর বহু চাষিকে নতুন করে ধানের বীজ বিলি করে। কেউ কেউ আবার বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু, সেগুলিও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
খানাকুলের পশ্চিম ঘোষপুরের চাষি অজিত মাইতি বলেন, একবার বীজতলা করেছিলাম। ঘাটালের দিক থেকে জল এসে তা নষ্ট করে দেয়। ফের বীজতলা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু, মাঠে বুক সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই এবছর আর ধান চাষ করা সম্ভব নয়।
শনিবারই রাজ্য ও জেলাস্তরের কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা খানাকুলের দুটি ব্লক পরিদর্শন করেন। কোথায় কোথায় চাষে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তা তাঁরা খতিয়ে দেখেন। কথা বলেন চাষিদের সঙ্গেও। কৃষিদপ্তরের হুগলির ডেপুটি ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মর্দন্যা বলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
খানাকুল-২ ব্লকের মাড়োখানার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ হাইত বলেন, এই এলাকায় চাষের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। মাঠে ও রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। নৌকা চলাচল করছে। বাজারেও জল ঢুকেছে। জল আরও বাড়লে এবার ঘরেও ঢুকে যাবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন রূপনারায়ণের জলস্তর রয়েছে ৭.৩৬ মিটার। তবে আরামবাগে দ্বারকেশ্বর নদের জল কিছুটা কমছে। মুণ্ডেশ্বরী ও দামোদর নদেও জলস্তর প্রাথমিক বিপদসীমা ছোঁয়নি। এদিনও ডিভিসির তরফে প্রায় ৬৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। আরামবাগ ব্লকের কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় জল এখনও জমে রয়েছে। প্রশাসনের তরফে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিলি করা হচ্ছে।