নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত কয়েক বছর ধরে গীতার শ্লোক সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে হুগলির গুপ্তিপাড়া-বেহুলায়। তাতে সাফল্যের পর এবার গণ উপনয়নের আয়োজন হতে চলেছে সেখানে। সামাজিক দায়বদ্ধতার খাতিরে আগামী দিনে গণবিবাহেরও আয়োজন করতে চান উদ্যোক্তারা।
বিগত কয়েক দশক ধরেই পুরোহিতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে গুপ্তিপাড়া পৌরহিত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। হুগলি তো বটেই, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে পুরোহিত হওয়ার পাঠ নিতে আসেন অনেকে। এখানকারই একটি শাখা রয়েছে মেমারিতে, যে শিবিরে বিগত কয়েক বছর ধরেই গণ উপনয়নের আয়োজন করা হয়ে আসছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক তথা আহ্বায়ক অতনু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কাছে এলাকারই কিছু দুঃস্থ মানুষ আসেন গণ উপনয়নের দাবি নিয়ে। তাঁদের আহ্বানেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে। তাই এগিয়ে এসেছেন গুপ্তিপাড়ারই কিছু মানুষ। তাঁদের প্রচেষ্টায় ৯ এপ্রিল মনসাতলায় ওই গণ উপনয়ন হবে। ভবিষ্যতে গণবিবাহের চিন্তাভাবনাও আমাদের আছে।
বিগত কয়েক বছর ধরেই বেহুলার সর্বমঙ্গলা মন্দিরে গীতাজয়ন্তীর আয়োজন করা হয়। ১৮ থেকে ২০ জন গীতাপাঠ করেন।
গুপ্তিপাড়া পৌরহিত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক সুজিত মুখোপাধ্যায় বলেন, এই উদ্যোগে আমরা প্রচুর সাড়া পেয়েছি। গীতা মানেই শুধু ধর্মকথা নয়। আধ্যাত্মিক দিকটির সঙ্গেই এর বাহ্যিক দিক আছে, যা প্রতিটি মানুষের জীবনশৈলীতে সঠিক পথ দেখায়। অনেকেই গীতার সংস্কৃত শ্লোক বোঝেন না। তাঁদের জন্য ব্যাখ্যা করা হয় প্রতিটি শ্লোক। গুপ্তিপাড়া-বেহুলায় এই উদ্যোগও প্রথম শুরু হয়েছে আমাদের মাধ্যমেই। গণ উপনয়নও তেমনই একটি উদ্যোগ, যা প্রথমবার শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই ভালো সাড়া পেয়েছি আমরা।