Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সংরক্ষণে সাফল্য, সংখ্যা বাড়ছে বিপন্ন বাটাগুর বাসকে কচ্ছপের, সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের উদ্যোগ

‘বাটাগুর বাসকে কচ্ছপ’ সুন্দরবন ছাড়া বিশ্বে আর কোথাও নেই— জোর গলায় এ কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কচ্ছপ সংরক্ষণের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে।

সংরক্ষণে সাফল্য, সংখ্যা বাড়ছে বিপন্ন বাটাগুর বাসকে কচ্ছপের, সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের উদ্যোগ
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘বাটাগুর বাসকে কচ্ছপ’ সুন্দরবন ছাড়া বিশ্বে আর কোথাও নেই— জোর গলায় এ কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কচ্ছপ সংরক্ষণের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে। সংরক্ষণ প্রক্রিয়া মোটামুটি সফল। এখন সবমিলিয়ে ৭০০ বাটাগুর রয়েছে টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের কাছে। এই বিপন্ন প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে ইনকিউবেটরের সাহায্যে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করার কাজ হয়েছে রিজার্ভ ফরেস্টে। কিছুদিন পর ওদের নদীতে ছেড়ে দেওয়া হবে।

Advertisement

বাটাগুরকে স্থানীয়ভাবে কেটো কচ্ছপ বা কাইট্টা কচ্ছপ বলে। অত্যন্ত বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় এর নাম রয়েছে। ব্যাঘ্র প্রকল্প সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছর কৃত্রিম উপায়ে ২২৩টি ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করা হয়েছে। প্রকল্পের কর্তাদের দাবি, এই প্রজাতির কচ্ছপ এখন শুধুমাত্র সুন্দরবনেই আছে। এই বিপন্ন প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে নজির গড়েছে টাইগার রিজার্ভ বলে অনেকে মনে করেন।  
ব্যাঘ্র প্রকল্পের সজনেখালি অভয়ারণ্যের ক্যাম্পাসে বাটাগুর সংরক্ষণের কাজ চলছে। এছাড়াও রয়েছে আরও ছ’টি কেন্দ্র। ২০১২ সালে যে কচ্ছপগুলি জন্মেছিল তারা বড় হয়ে এখন ডিম পাড়ছে। প্রাকৃতিক উপায়ে ডিম ফুটতে দিলে কিছু সংখ্যক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ব্যাঘ্র প্রকল্পের কর্তারা ইনকিউবেটরের সাহায্য নিয়েছেন। টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, ‘২০০৮ সালে ১২টি  কচ্ছপ নিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বনকর্মীর সহযোগিতায় এই সাফল্য এসেছে।’
২০২২ সালে ১০টি কচ্ছপের শরীরে ট্রান্সমিটার লাগিয়ে নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে তাদের বাসস্থান ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট নিয়ে গবেষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সূত্র ধরেই আগামী দিনে বেশ কিছু বাটাগুর বাসকে নদীতে ছাড়তে চাইছে কর্তৃপক্ষ। জোন্স বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করছি। কোথায় ছাড়লে ভালো হয় তা দেখে প্রতিবছরই ২০০টির মতো ছাড়া হবে। এর ফলে এদের সংখ্যা বাড়বে।’ 
সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভে এই প্রাণীর যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফুটিয়ে তোলার ব্যবস্থা করার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কর্মীদের। এসবের কারণেই বাটাগুর বাসকে বিলুপ্তির খাদ থেকে ফিরে এসেছে বলে মনে করে প্রকৃতিপ্রেমীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ