


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হবে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশন। তার আগে কেন্দ্রের থেকে ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ের ক্ষেত্রে বড়ো সাফল্য এল রাজ্যের। গ্রামোন্নয়ন এবং নগরোন্নয়ন—এই দুই খাতেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২,১৩০ কোটি টাকা পেতে চলেছে বাংলা।
১ ফেব্রুয়ারির কেন্দ্রীয় বাজেটে ষষ্ঠদশ কমিশনের সুপারিশ মেনে রাজ্যগুলিকে ২০২৬-৩১ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ফলে এপ্রিল মাসে নতুন আর্থিক বছর চালু হয়ে গেলে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বাকি থাকা টাকা পাওয়া আর কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। সেই কারণেই নিজের ন্যায্য প্রাপ্যের টাকা আদায় করতে দিল্লি পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পদস্থ কর্তারা। গত সপ্তাহে সেখানে তাঁরা প্রাপ্য আদায় নিয়ে বৈঠকও করেছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সঙ্গে। ফলস্বরূপ আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই নগরোন্নয়ন খাতের ৪৫০ কোটি টাকা রাজ্য পেতে চলেছে বলেই সূত্রের খবর। ২০২৪-২৫ সালের শেষ কিস্তি বাবদ এই টাকা দেওয়া হবে, যা পাবে রাজ্যে ১০০টি পুরসভা। নির্বাচন বাকি থাকায় এবং রাজ্যের জিডিপির হারের তুলনায় নিজস্ব আয় বৃদ্ধি না-হওয়ায় এবারও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়ার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রায় ২৮টি পুরসভাকে।
একই সঙ্গে গ্রামোন্নয়ন খাতের আরো প্রায় ১,৬৮০ কোটি টাকা পাওয়ার জন্য লড়াই চলছিল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের। এই ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ কিস্তির টাকা পাচ্ছে বাংলা, যার মধ্যে ৬৮০ কোটি টাকা হল নিঃশর্ত তহবিলের। এর অনুমোদন ইতিমধ্যে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক দিয়ে দিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক গ্রিন সিগন্যাল দিলেই এই বকেয়া অর্থ পাবে বাংলা। এটা শীঘ্রই হয়ে যাবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। ফলে ফেব্রুয়ারিতেই মিলবে এই টাকা। শর্তাধীন তহবিলের এক হাজার কোটির অনুমোদন দেয় জলশক্তি মন্ত্রক।
আধিকারিকদের আশা, কেন্দ্রের সমস্ত শর্ত মেনে রাজ্য নথিপত্র জমা দিয়ে দেওয়ার ফলে এই টাকা চলে আসবে এমাসের মধ্যেই। বিগত পাঁচবছরে শুধুমাত্র গ্রামোন্নয়ন খাতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২১ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে বাংলা। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, অনেক রাজ্যই এর ধারে কাছে পৌঁছাতে পারেনি। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা হয়েছে বলেই রাজ্যের এই ন্যায্য প্রাপ্য দিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র।