Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারা বছর দেখা মেলে, মাটি কামড়ে পড়ে থাকাই সুভাষের প্লাস পয়েন্ট

প্রাকৃতিক দুর্যোগে আলু চাষিদের মাথায় হাত। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া কাদামাখা আলু মাছ ধরার জালে জলে ধুয়ে পরিষ্কার করছেন কৃষকরা। ফলে ভোটের মুখে ভালো নেই ফালাকাটার আলু চাষিরা।

সারা বছর দেখা মেলে, মাটি কামড়ে পড়ে থাকাই সুভাষের প্লাস পয়েন্ট
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: প্রাকৃতিক দুর্যোগে আলু চাষিদের মাথায় হাত। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া কাদামাখা আলু মাছ ধরার জালে জলে ধুয়ে পরিষ্কার করছেন কৃষকরা। ফলে ভোটের মুখে ভালো নেই ফালাকাটার আলু চাষিরা। তাই ভোট নিয়ে কথা বলতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কেমন যেন উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ফালাকাটায় দাপটে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু একুশের ভোটে ফালাকাটায় পদ্মফুলের চাষ হওয়ায় আচমকা ছন্দপতন ঘটে জোড়াফুলের। সেবার বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মনের কাছে মাত্র ৩৯৯০ ভোটে হেরে যান তৃণমূলের এবারেরও প্রার্থী সুভাষ রায়। 

Advertisement

সাধারণত ভোটের লড়াইয়ে হেরে গেলে অনেকেই মানুষের পাশ থেকে সরে যান। রাজনীতিতেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। কিন্তু সুভাষবাবু মানুষের সমস্যা থেকে দূরে সরে যাননি। দলীয় রাজনীতি থেকেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েননি। ভোটে হারলেও তিনি বিধানসভা এলাকায় গত পাঁচ বছর ধরে মানুষের সমস্যা নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। তারই ফলস্বরূপ গত পঞ্চায়েত ভোটে জিতে তিনি ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন। 
উল্টোদিকে সাধারণ মানুষের একাংশ বলছে, ভোটে জেতার পর বিদায়ী বিধায়ক দীপক বর্মনকে সেভাবে দেখা যায়নি। এখন আবার ভোট এসেছে বলে দীপকবাবু এলাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। যদিও দীপকবাবুর পাল্টা তোপ, এসব তৃণমূলী অপপ্রচার। এলাকার উন্নয়নে গত পাঁচবছরে বিধানসভার প্রতিটি বুথ চষে বেরিয়েছি। ততটা উৎসাহ না দেখালেও এলাকার ভোটারদের একাংশ কিন্তু কবুল করছেন একুশে সুভাষবাবু হারলেও তিনি মানুষের পাশেই ছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যায় পাশে ছিলেন। 
ভুটনিরঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষি রত্নেশ্বর রায় বলেন, এটা ঠিক একুশের ভোটে হারলেও সুভাষবাবুকে এখনও কোনো সমস্যায় ডাকলে পাওয়া যায়। অথচ ওই ভোটে দীপকবাবু জিতলেও এলাকায় তাঁকে সেভাবে পাওয়া যায় না। ভুটনিরঘাটের আরএক আলু চাষি ভুপাল সরকার বলেন, এখন ভোট এসেছে তাই এলাকায় দীপকবাবুর ফের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। 
মঙ্গলবার দিনভর গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রচারের ফাঁকে তৃণমূল প্রার্থী সুভাষবাবু বলেন, আমি ভোটে হারলেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকি। নিষ্ক্রিয় হয়ে ছিলাম না। আমার অতি বড় শত্রুও একথা বলবে। আর বিজেপি প্রার্থী দীপকবাবু ভোটে জেতার পরেও এলাকায় ক’দিন এসেছিলেন সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করুন বুঝতে পারবেন। 
যদিও বিজেপি প্রার্থী দীপকবাবুর পাল্টা তোপ, বিধানসভা এলাকায় ১২টি সেতু দুর্বল। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসাবে সুভাষবাবু ক’টা সেতু বানিয়েছেন? ফলে মানুষের সমস্যায় কে এলাকায় থাকেন আর কে থাকেন না এ থেকেই তো বোঝা যায়। মানুষ বিজেপির পাশে আছে। ফলে এবারও জিতব। এদিকে, সিপিএম প্রার্থী কমলকিশোর রায়ও জোর প্রচারে নেমেছেন। এদিন ফালাকাটা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করেন তিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ