সংবাদদাতা, লালবাগ: খেলার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় খুদে বালকের মৃত্যুতে সামশেরগঞ্জের জামিয়ানগর গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার সকালে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির ভারী লোহার গেট হঠাৎই তিন বালকের উপর পড়ে যায়। এই ঘটনায় তানবির শেখ নামে সাতবছরের এক বালকের মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। আরিফুল শেখ ও মোস্তাফিজুর রহমান নামে আরও দুই বালক গুরুতর জখম হয়েছে। তারা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, এঘটনায় এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।
বেশ কিছুদিন ধরে জামিয়ানগর গ্রামে একটি পাকা বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। বাড়িতে ঢোকার জন্য একটি লোহার তৈরি গেট বসানো হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশালাকার লোহার গেটটি স্থায়ীভাবে লাগানো ছিল না। দু’পাশের দেওয়ালের সঙ্গে দড়ি দিয়ে কোনওভাবে সেটি আটকে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকালে এলাকার কয়েকজন বালক গেটের সামনে খেলায় মেতে ওঠে। তাদের মধ্যে তিনজন ওই লোহার গেটের কাছেই ছিল। বাকিরা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎই ভারী লোহার গেটটি তিন বালকের উপর পড়ে যায়। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি গেটটি সরিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। তিন বালককে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তানবিরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দুই বালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
তানবিরের মা হামিদা খাতুন ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে ঘন ঘন সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। খবর পেয়ে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
গ্রামের ছোট্ট একটি বালকের প্রাণ এভাবে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রাস্তার পাশে নির্মীয়মাণ বাড়ির গেটটি অমন বিপজ্জনকভাবে কেন রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নই গ্রামবাসীরা করছেন। মৃত শিশুর পরিবার ও গ্রামবাসীরা ওই বাড়ির মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মৃত শিশুর বাবা মোস্তাক শেখ পরিযায়ী শ্রমিক। গত কয়েকমাস ধরে তিনি কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে আছেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মৃত তানবিরের কাকিমা মেহেরা বিবি ওই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, গ্রামের কয়েকজন ছেলে ওই গেটের সামনে খেলছিল। ওদের মধ্যে একজন গেট ধরে নাড়াতেই সেটি তিনজনের উপর পড়ে যায়। চোখের সামনে ছেলেটা মারা গেল। আমরা কিছুই করতে পারলাম না।
ওই গ্রামের অপর বাসিন্দা ফজলুর শেখ বলেন, এই দুর্ঘটনার জন্য ওই বাড়ির মালিকও কিছুটা দায়ী। তিনি যদি ভারী লোহার গেটটি দড়ি দিয়ে দেওয়ালের সঙ্গে কোনওরকমে আটকে না রাখতেন, তাহলে একজন মায়ের কোল খালি হতো না। আমরা বাড়ির মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।