


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অনলাইনে কাস্ট অথেন্টিকেশন সার্টিফিকেট (জাতিগত শংসাপত্রের আবেদনের জন্য প্রধানের শংসাপত্র), ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট, ব্যক্তি পরিচয়পত্র, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, ইনকাম সার্টিফিকেট, আনম্যারেড (অবিবাহিত) সার্টিফিকেট এবং ডিসট্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। এর ফলে শংসাপত্র দেওয়ার কাজে অনেক বেশি স্বচ্ছতা এসেছে বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের। কারণ, এক্ষেত্রে আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের পর শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে। ফলও মিলেছে হাতেনাতে। বাতিল হয়েছে সাড়ে তিন লক্ষের বেশি আবেদন, যা মোট আবেদনের দশ শতাংশেরও বেশি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩১ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যার মধ্যে ২৭ লক্ষ আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই একটি আবেদনের মাধ্যমে একের বেশি শংসাপত্র দাবি করা হয়েছে। অনলাইন পরিষেবা চালু হওয়ার প্রথম আট মাসেই প্রায় ৪৫ লক্ষ শংসাপত্র প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯৫৯টি আবেদন। কিন্তু এত আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ কী? জানা গিয়েছে, অনলাইনে শংসাপত্রের আবেদন করতে গেলে আবেদনকারীকে অন্তত একটি বৈধ পরিচয়পত্র সহ বেশ কিছু নথি জমা বা ‘আপলোড’ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে না পারায় বা তাঁদের জমা দেওয়া নথির ছবি স্পষ্ট না হওয়ায় আবেদন বাতিল হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অকারণে যাতে কারও আবেদন বাতিল না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, আগে শংসাপত্র প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করত পঞ্চায়েত প্রধানের উপর। বর্তমানে পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের দ্বারা প্রাথমিক যাচাইয়ের পর পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। প্রয়োজনে আধিকারিকরা আবেদনকারীর বাড়ি গিয়ে যাচাই করে তবেই রিপোর্ট দেন পঞ্চায়েত প্রধানকে। এই কাজও হয় সম্পূর্ণ অনলাইনে এবং পঞ্চায়েত প্রধানকে তাঁর নিজের মোবাইলে আসা ওটিপি ব্যবহার করে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হয়। ফলে অযোগ্য কোনও আবেদনকারীকে শংসাপত্র দেওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না কার্যত। এর ফলেই শংসাপত্র প্রদানের কাজে স্বচ্ছতা রক্ষিত হচ্ছে বলে তাঁদের মত। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘স্বচ্ছতা বজায় রেখেই বাংলায় সব কাজ হয়। বিরোধীরা কেবল রাজনৈতিক চক্রান্ত করে বাংলাকে কালিমালিপ্ত করতে চায়।’
অনলাইনে শংসাপত্র দেওয়া শুরু হওয়ায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হাতে হাতে শংসাপত্র দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য। তাছাড়া, এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও শংসাপত্র তুলে দেওয়া যাচ্ছে খুব কম সময়ে। অনলাইন চালু হওয়ার পর প্রায় ৭০ শতাংশ শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব হয়েছে আবেদন জমা পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এই ছ’ধরনের শংসাপত্র পেতে আর পঞ্চায়েত অফিসে চক্কর কাটতে হয় না আবেদনকারীকে।