


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: জাল নোট ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারে তিনবছর শাস্তি হয় তার। সাজা শেষে জেলফেরত মহম্মদ আসলাম মুঙ্গের থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এনে সুপারি কিলার ও ডনদের সাপ্লাই করছিল। কটকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রের কারখানায় তল্লাশি চালাতেই কলকাতা পুলিসের এসটিএফ এর পিছনে আসলামেরই কেরামতি টের পায়। তারপর থেকেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল দুই রাজ্যের পুলিস। শেষপর্যন্ত ওড়িশা পুলিসের এসটিএফের হাতে বিহার থেকে গ্রেপ্তার হল সে।
মার্চ মাসে কটকে ওড়িশা রাজ্য পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে সেখানকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় কলকাতার এসটিএফ। ওই বাড়িতে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারখানা চলছিল বলে অভিযোগ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, সেমি ফিনিশড আর্মস এবং আর্মস তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। গ্রেপ্তার করা হয় এই কারখানার মালিক মহম্মদ আজম, শরৎচন্দ্র যাদবসহ চারজনকে। তাদের ওড়িশা পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মহম্মদ আজমকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই আগ্নেয়াস্ত্র কিনছে বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ আসলাম। এই অস্ত্র কারবারির সঙ্গে তার যোগাযোগ বহুদিনের। কটকের এই কারখানায় আসলামের যাতায়াত রয়েছে। তার অর্ডার মতো মাল পৌঁছে দিচ্ছে আবিদ। তদন্তে প্রকাশ, আসলাম বহু পুরনো অস্ত্র ব্যবসায়ী। আগে দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও জাল নোটের ব্যবসা করত সে। ২০১৮ সালে লক্ষাধিক জাল টাকা এবং অস্ত্রসমেত কলকাতার এসটিএফ তাকে গ্রেপ্তারও করে। চার্জশিট জমা পড়ে তার বিরুদ্ধে। আদালত তার সাজা দেয়। ২০২১-এর ২৩ জুন পর্যন্ত সে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ছিল।
সাজা শেষ করে বেরিয়ে আসলাম চলে যায় মুঙ্গের। মুঙ্গেরে আর্মস তৈরিতে দক্ষ কারিগরদের কটকে নিয়ে যায় সে। আজমকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করতে বলে। মূলত নাইন ও সেভেন এমএম পিস্তল তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়। সেইমতো আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি চলছিল। তাকে হাতে পেতে উঠেপড়ে লাগে দুই রাজ্যের পুলিস। কয়েকদিন আগে ওড়িশা পুলিসের কাছে তার নতুন নম্বর আসে। সেই সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মুঙ্গেরে রয়েছে এবং সেখানেই হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার সঙ্গে বিহারের বিভিন্ন সুপারি কিলার, ডন ও গ্যাংস্টারদের যোগাযোগ রয়েছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন। সুপারি কিলারদের কাছে নাইন ও সেভেন এমএম পিস্তলের কদর সর্বাধিক। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার করছে আসলামকে। এরপর এগুলি ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকায় সে তাদের বেচেছে। তার কাছ থেকে কয়েকজন গ্যাংস্টার ও সুপারি কিলারের নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা। খোঁজখবর চলছে তাদের সম্পর্কেও।