অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ। তাও আবার দুবাই! বুর্জ খলিফা, দুবাই ফাউন্টেন, মিউজিয়াম সহ আস্ত দুবাই শহর দেখার সুযোগ করে দিয়েছে সল্টলেকের আই বি ব্লক পুজো কমিটি। আকর্ষণ এখানেই শেষ নয়! মণ্ডপে ঢুকলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। কারণ, মা দুর্গা, লক্ষ্মী-গণেশ, কার্তিক-সরস্বতী, এমনকি অসুরের গায়েও কেজি কেজি সোনার গয়না! সব মিলিয়ে ১২৩ কেজি সোনার সাজ! ফলে এই মাতৃপ্রতিমাকে সোনার দুর্গা বললেও অত্যুক্তি হয় না। এখন দুর্গাপ্রতিমার ‘নিরাপত্তা’র জন্য ২৪ ঘণ্টা থাকছে পুলিশি প্রহরা।
আই বি ব্লক পুজো কমিটির চেয়ারম্যান রঞ্জন পোদ্দার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুজোর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন। এদিনই রাত ৮টার পর থেকে দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া হবে। এবারের থিম এবং প্রতিমা দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হবেনই।’
‘দুবাই দুর্গে দুর্গা’—এই থিমেই সেজে উঠেছে আই বি ব্লক। সন্ধ্যার পর আলোয় ঝলমল করবে ‘দুবাই’। মাঠে প্রবেশ করলে মনে হবে, আপনি বিদেশে পা রেখেছেন। ‘দুবাই ফাউন্টেন’ হয়ে আপনাকে এগোতে হবে মূল মণ্ডপের দিকে। ডানদিকে থাকবে, দুবাই মিউজিয়াম। মূল মণ্ডপটি তৈরি হয়েছে ‘বুর্জ খলিফা’র আদলে। তার ভিতরেই রয়েছে মাতৃপ্রতিমা। প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী প্রদীপ রুদ্র পাল। মুকুট সহ প্রতিমার পুরো সাজ সোনা দিয়ে বানানো হয়েছে। একটি স্বর্ণ কোম্পানি ওই বিপুল পরিমাণ সোনা স্পনসর্ড করেছে। দুবাইয়ে তাদের শোরুমও রয়েছে।
এই পুজোর বাড়তি পাওনা, মণ্ডপের পাশেই মেলা। রথ দেখা, কলা বেচার মতো ঠাকুর দেখে মেলার আনন্দও নেওয়া যাবে এখানে। বিশেষ করে ছোটোদের জন্য এই মেলা খুবই আর্কষণীয়। রঞ্জনবাবু বলেন, ‘আমাদের বুর্জ খলিফার একটি বিশেষত্ব রয়েছে। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ভিতর যে আলো ব্যবহার করা হয়, সেই একই আলো মণ্ডপেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা অভিনব। আসল ফোর মেগা পিক্সেল আলো। এর আগে পুজোর থিমে বুর্জ খলিফা এলেও এই আলো ব্যবহার হয়নি।’ তিনি আরও জানান, এবার ১২৩.৩ কেজি সোনার গয়না দিয়ে পুরো প্রতিমা সাজানো হয়েছে। কলকাতা-সল্টলেকের কোথাও এত পরিমাণ সোনায় গয়নায় প্রতিমা সাজানো হয়নি কখনও। যার দেখা মিলবে একমাত্র আই বি ব্লকেই।