নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টি নয়, চলতি আর্থিক বছরে দেশের বড় অর্থনীতির রাজ্যগুলির পাখির চোখ হতে চলেছে সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে খরচ। তা যেমন কিছুটা ভোটমুখী, তেমনই নাগরিকদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির কারণেও বটে। সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে খরচ বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ বাড়বে রাজ্যগুলিতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্যগুলি, দাবি করেছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল।
কন্যাশ্রী বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো মহিলাদের জন্য আর্থিক সুবিধা নির্ভর প্রকল্প হোক, বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো আম জনতার স্কিম—এরাজ্যে ইতিমধ্যেই ভালো সাড়ে ফেলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে আসা সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্প। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এই প্রকল্পগুলি আটকে থাকেনি। এগুলির বিপুল জনিপ্রয়তা বিবেচেনা করে বিভিন্ন রাজ্য চালু করেছে হরেকরকম সামাজিক প্রকল্প। সেগুলিতেও সাফল্য এসেছে ভালোই। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দেশের বড় অর্থনীতির ১৮টি রাজ্য, যেগুলি মোট অর্থনীতির ৯০ শতাংশ দখলে রাখে, তারা সামাজিক প্রকল্প খাতে বিপুল ব্যয় বাড়াতে চলেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যগুলি স্টেট জিডিপির ১.৪ থেকে ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করেছিল এই ধরনের সামাজিক প্রকল্প খাতে। তা বাড়িয়ে চলতি অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে ২ শতাংশ হতে চলেছে। তার অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। দু’বছর আগে তুলনায় তা বাড়বে ২ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকা খরচ হবে শুধুমাত্র মহিলানির্ভর সামাজিক প্রকল্পে। বাদবাকি টাকা খরচ হতে পারে পেনশন, স্বাস্থ্য এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণে।
ক্রিসিলের বক্তব্য, গত অর্থবর্ষে রাজ্যগুলি মূলধনী খাতে খরচ বাড়িয়েছে গড়ে ৫ শতাংশ হারে। অথচ ২০১৯ সাল থেকে পরপর কয়েকবছর তা পৌঁছেছিল গড়ে ১১ শতাংশ হারে। সামাজিক প্রকল্প খাতে খরচ বাড়লে, তা পরিকাঠামো খাতে খরচের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রাজ্যগুলিতে এবারও মূলধনী খরচ কিছুটা ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে।