


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: জরুতি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবার জন্য রাজ্যে আরও ৩০টি দমকল কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে শীঘ্রই ১০টি কেন্দ্রের কাজ শুরু হতে চলেছে। তার ওয়ার্ক অর্ডারও হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু কাজ শুরুর অপেক্ষা। বাকিগুলিও ধীরে ধীরে শুরু হবে। বর্তমানে রাজ্যে ১৬৭টি দমকল কেন্দ্র রয়েছে। এই ৩০টির কাজ সম্পূর্ণ হলে ১৯৭ অর্থাৎ প্রায় দু’শোর কাছাকাছি পৌঁছে যাবে দমকল কেন্দ্রের সংখ্যা। জানা গিয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে উদ্বোধন করানো হবে।
দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১০৯টি দমকল কেন্দ্র ছিল। আমরা আরও নতুন ৫৮টি তৈরি করেছি। সব মিলিয়ে এখন দমকল কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬৭টি। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে যে ৩০টি নতুন কেন্দ্র তৈরি হবে, তার মধ্যে ১০টির কাজ এখনই শুরু হবে। পাঁচটি কেন্দ্রের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। বাকি ১৫টির কাজের জন্য এস্টিমেট করা হচ্ছে।’
জানা গিয়েছে, ৩০টির মধ্যে যে ১০টি কেন্দ্রের কাজ এখনই শুরু হচ্ছে, তার মধ্যে পুরুলিয়ার মানবাজারে একটি, হাওড়ার ধুলাগড়ে (সাঁকরাইল) একটি, হাওড়ার আমতায় একটি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় একটি, ওই জেলার হারালে একটি, হুগলির ধনেখালিতে একটি, বীরভূমের লাভপুরে একটি। এছাড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় একটি দমকল কেন্দ্র তৈরি হবে। বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় একটি এবং ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে একটি তৈরি হবে। এইগুলি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।
দমকল দপ্তরের দাবি, একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সকলকে ফায়ার লাইসেন্স নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। তার সুফলও মিলেছে। গত বছর গোটা রাজ্য থেকে ১৩ হাজার ৬৩০টি ফায়ার লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছিল। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৬৯৭টি। অর্থাৎ, দ্বিগুণ। এছাড়াও, ফায়ার অডিটের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনও ফাঁক, অনিয়ম ধরা পড়লে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ফায়ার অডিটে সকলকে সচেতনও করা হচ্ছে। যাতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সহ সমস্ত বিধি মেনে চলে হয়।