


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকলকে কালীপুজো ও দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আতশবাজি পোড়ানো নিয়েও শুক্রবার সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কলকাতায় শেক্সপিয়ার সরণিতে অল ইয়ুথ ফ্রেন্ডস ক্লাবের কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সকলকে কালীপুজো ও দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাই। আপনার আনন্দ যেন অপরের নিরানন্দের কারণ না-হয়। বাজি কারও গায়ে ছুঁড়বেন না। এমনভাবে বাজি ফাটাবেন না যাতে অন্যের অসুবিধা হয়। বাজি ফাটাবার সময় সবরকম সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। যে-সমস্ত সবুজ পরিবেশবান্ধব বাজি রয়েছে সেগুলিই ফাটান। বাজি ছুঁড়বার সময় সবদিক নজর রাখবেন।’
আতশবাজি পোড়ানো নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুলিশও। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কালীপুজো এবং দীপাবলি উপলক্ষ্যে ২০ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র সবুজ বাজি পোড়ানোর অনুমতি রয়েছে। ছটপুজো উপলক্ষ্যে ২৮ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন উৎসবে কোনোরকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এদিন সকালেই জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেখানেই তিনি সবুজবাজি ছাড়া অন্যকোনও বাজি যাতে কোথাও পোড়ানো না-হয় সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, বেআইনি আতশবাজির বিরুদ্ধে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কাজ করবে বলেও বলা হয়েছে এদিনের বৈঠকে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বেআইনি বাজি নিয়ে কেউ ধরা পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া উৎসবের মরশুমে যাতে কোনোভাবেই অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম না বাড়ে সেই বিষয়েও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওইসঙ্গে ছটপুজোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্তুতিও সেরে রাখতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। উৎসবের মরশুমে চালু থাকবে নবান্নের স্টেট কন্ট্রোলরুম। তার হেল্পলাইন নম্বর হল: ০৩৩ ২২১৪ ৩৫২৬।
অন্যদিকে, সাধারণের কাছে বাজি দৌরাত্ম্য মেনে না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সবুজ মঞ্চের তরফে। জনগণের উদ্দেশে তাঁদের আবেদন, ‘আজকাল ইন্টারনেট থেকেই সব থানার ফোন নম্বর পাওয়া যায়। কোথাও শব্দ এবং বাজি দৌরাত্ম্য আপনার সমস্যা সৃষ্টি করলে সরাসরি ফোন করুন।’ এদিন তাদের তরফে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বক্তব্য, কলকাতা, শিলিগুড়ি, হাওড়া, আসানসোল প্রভৃতি পৃথিবীর সর্বাধিক দূষিত শহরগুলির অন্তর্গত। তা সত্ত্বেও বাজি বন্ধের কর্মসূচিকে রাজ্য গুরুত্বই দিচ্ছেন না। শব্দবাজি ও অন্যান্য বাজির ক্ষেত্রে সরকার আইন ও কোর্টের আদেশের যুক্তি খাড়া করে যেসব নির্দেশ দিচ্ছে, কার্যত তাতে বাজির দূষণই উৎসাহ পাচ্ছে এবং উপেক্ষিত হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি। তাদের আরও দাবি, প্রায় সমস্ত বাজিই লাইসেন্স ছাড়া উৎপাদন, মজুত, ব্যবসা এবং ব্যবহৃত হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন বাজি বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরেও, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, সর্বত্র এবং সব বাজিই বিক্রি হচ্ছে। সবুজ বাজির নামে যেসব বস্তু বিক্রি হচ্ছে তার প্রায় সবই জাল স্ট্যাম্পযুক্ত! এমনকি, বলা হচ্ছে কিউআর কোড রাখারও নাকি বাধ্যবাধকতা নেই।