


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০০৯ থেকে ২৫ সাল, ১৬ বছরের ইতিহাস। ৩৮ জনের লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছে রাজ্যের এক নম্বর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল পিজিতে। তবে মৃত্যুহারও নেহাত কম নয়—২৬ শতাংশ! মানে প্রতি চারটি লিভার প্রতিস্থাপনের ঘটনায় একবছরের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। পাশাপাশি এটাও ঘটনা, আগের তুলনায় লিভার প্রতিস্থাপনে অনেক বেশি গতি এসেছে এখানে। সরকারি ক্ষেত্রে ভিন রাজ্যের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জনের উপর নির্ভরতাও কমেছে। পিজির নিজস্ব গ্যাস্ট্রো সার্জনরাই এখন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করছেন। এমনই তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্যদপ্তর এবং পিজি সূত্রে।
২০০৯ সালে পিজির লিভার এবং পেটের চিকিৎসার উৎকর্ষ কেন্দ্র স্কুল অব ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড লিভার ডিজিজ-এ (এসডিএলডি) প্রথম লিভার প্রতিস্থাপন হয়। পরবর্তী পর্যায়কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ২০১০-২০১৮ সাল এবং ২০১৮-২০২৫ সাল। প্রথম পর্যায়ে সাতটি লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছে পিজিতে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে দ্বিতীয় পর্যায়ে হয়েছে অনেক বেশি—৩১টি। একবছরের মধ্যে মারা গিয়েছেন আটজন। মানে সবসুদ্ধ ৩৮ জনের প্রতিস্থাপন হয়েছে, একবছরে মারা গিয়েছেন ১০ জন। সেখানে সারা দেশে এখন লিভার প্রতিস্থাপনে মৃত্যুহার ৫-১০ শতাংশ।
কেন এমন হচ্ছে? এসডিএলডির প্রধান বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডাঃ গোপালকৃষ্ণ ঢালি বলেন, দিল্লি, গুরুগ্রাম বা চেন্নাইয়ের কিছু প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত ২৫০০-৪০০০ লিভার প্রতিস্থাপন করে ফেলেছে। শুধুমাত্র ওইসব জায়গাতেই মৃত্যুহার কম—৫-১০ শতাংশ। ওদের সঙ্গে তুলনা করলে হবে না। ওরা শুধু লিভার প্রতিস্থাপনই করে। আমাদের সমস্ত ধরনের অসুখই দেখতে হয়। তবে এটাও ঘটনা, আমাদের এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকি। ডাঃ ঢালির দাবি, লিভার প্রতিস্থাপনে মৃত্যুর ঘটনা শুধু এখানে নয়, পূর্বাঞ্চলের বহু প্রাইভেট হাসপাতালেও ঘটে। কিন্তু চাকচিক্যের আড়ালে সেসব চাপা পড়ে যায়। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কলকাতায় সবসুদ্ধ ৬৮টি লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছে। তার মধ্যে ৩১টি হয়েছে শুধু পিজিতেই। শহরের বাকি পাঁচ-ছয়টি প্রাইভেট হাসপাতাল মিলে হয়েছে ৩৭টি প্রতিস্থাপন। ওই সময়কালে পিজিতে ৩১টি প্রতিস্থাপনের ঘটনা ঘটলেও বাস্তবে কিন্তু প্রতিস্থাপনের জন্য রোটোতে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন ১১১ জন। তাহলে, বাকি ৭০ জনের প্রতিস্থাপন হল না কেন? পিজির এক সিনিয়র গ্যাসট্রোএনটেরোলজিস্ট বলেন, ‘কারণ একাধিক। প্রথমত, নাম লিখিয়েই অনেকে ভাবেন কাজ শেষ। ফলো আপ করেন না। দ্বিতীয়ত, লিভার প্রতিস্থাপনের রোগীদের বেশিরভাগই অন্তিম পর্যায়ের লিভারের অসুখের রোগী। প্রতিস্থাপন হওয়ার আগেই তাঁদের অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। নয়তো, শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হচ্ছে যে, ওটি টেবিলেই মৃত্যুর আশঙ্কা থাকছে। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন করা হয় না। তৃতীয়ত, যা চাহিদা সেইরকম ‘ব্রেন ডেথ’ দাতা বা ‘ক্যাডাভার’-এর লিভার পাওয়া যায় না। চতুর্থত, দাতা পাওয়ার পর অনেকসময় গ্রহীতার পরিবার প্রতিস্থাপনে রাজি হচ্ছেন না।