নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের একগুচ্ছ মামলার জট। পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হতে ফের একগুচ্ছ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। এসএসসি’র ফল প্রকাশের দিনই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া নিয়ে আগেই মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবারও ওই একই ইস্যুতে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেখানে নিজেদের বক্তব্য জানাবে এসএসসি। বিশ্বজিৎ বিশ্বাস সহ একাধিক চাকরিপ্রার্থীর আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী বলেন, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের একাডেমিক যোগ্যতা যেমন আলাদা, তেমন অভিজ্ঞতাও আলাদা। সেই ক্ষেত্রে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষকরা যদি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেন, তাহলে তাঁদের অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর পাওয়া নিয়ম বহির্ভূত।
এদিকে, সদ্য শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় চারটি বিষয়ে প্রশ্ন ভুলের অভিযোগে এদিন বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। এসএসসি-তে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হয় গত ১৮ সেপ্টেম্বর। গত ৭ নভেম্বর সেই পরীক্ষার ফল বের হয়। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ছিল ভুলে-ভরা। এনিয়ে সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আবেদনকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের অভিযোগ, এডুকেশন বিষয়ে দু’টি প্রশ্ন ভুল ছিল। ইতিহাসের যাঁরা ওই প্রশ্নগুলিতে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ নম্বর দেওয়া হোক।
অন্যদিকে, গত ২২ সেপ্টেম্বর স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশে নিয়োগে জাতিগত শংসাপত্রের বিষয়ে আপডেট করা যাবে। কিন্তু অভিযোগ, সেখানে ওবিসি ছাড়া অন্য কোনও জাতির চাকরিপ্রার্থী শংসাপত্র আপডেট করতে পারেননি। যা নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল। আবেদনকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের দাবি, জাতিগত শংসাপত্র আপডেট করার সুযোগ দেওয়া হলে, সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। শুধু ওবিসি ক্যাটিগরিকে কেন সুযোগ দেওয়া হবে? যদিও এ নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই জাতিগত শংসাপত্র আপডেট করার সুযোগ দিয়েছে এসএসসি। ওই নির্দেশনামার কপি তলব করেছে আদালত। আগামী ১৪ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।