সোমনাথ বসু, কলকাতা: এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল বোঝাল, ফুটবল এখন আর ফুটবলারদের দখলে নয়। এই খেলায় কোচই সর্বেসর্বা। ড্রেসিং-রুমে তাঁর ছকে দেওয়া স্ট্র্যাটেজির বাইরে যাওয়ার দুঃসাহস কারও নেই। একটু ভেবে দেখুন, ইউরোপ সেরা হওয়ার জন্য মেসি, নেইমার, এমবাপেদের উপর ভরসা করেছিল পিএসজি। অর্থের দিকে না তাকিয়ে দল গড়তেন নাসের আল খালেফি। কিন্তু এই ত্রয়ী দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে ব্যর্থ। আর এখানেই লুই এনরিকের সাফল্য। একঝাঁক তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে তিনি এবার পিএসজি’কে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতালেন। তবে কোচেদের প্রাধান্য ফুটবলকে বড়ই যান্ত্রিক করে তুলছে। রোম্যান্টিসিজম আজ কোণঠাসা। আর এই প্রেক্ষিতে উয়েফা নেশনস লিগ বড়ই তাৎপর্যপূর্ণ। আজ মিউনিখের অ্যালায়েঞ্জ এরিনায় মুখোমুখি হবে স্পেন এবং পর্তুগাল। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের নিরিখে অবশ্যই হট ফেভারিট লুইস ডে লা ফুয়েন্তের দল। তবে তার চেয়েও বড় কথা, স্পেন জিতলে আখেরে লাভ ফুটবলেরই। লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেড্রিরাই পারেন হারানো রোম্যান্টিসিজম ফিরিয়ে আনতে। আগামী কয়েক বছর তাঁদের নিয়েই মেতে থাকবে বিশ্ব ফুটবল। উল্টোদিকে, এই পর্তুগাল দলের নতুন করে কিছু আর দেওয়ার নেই। কেরিয়ারের সায়াহ্নে পৌঁছে গিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ব্রুনো ফার্নান্ডেজকেও এখন আর তরুণ বলা চলে না। দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ দক্ষ স্ট্র্যাটেজিস্ট। সেমি-ফাইনালে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারানোর পর তিনি নিশ্চয়ই পিছনে তাকাতে চাইবেন না। তারুণ্যের জোয়ারে ভাসতে থাকা স্পেনের বিরুদ্ধে রক্ষণে খিল এঁটে প্রতি-আক্রমণে গোল তুলে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। কারণ, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত খেলে জিতলেও স্পেনের রক্ষণ যথেষ্ট ভঙ্গুর। তাই দুই অর্ধের শেষ দশ মিনিট আক্রমণে চাপ বাড়াতে পারে মার্তিনেজ-ব্রিগেড। কিন্তু সেই সুযোগ কি তাদের দেবেন লামিনে ইয়ামালরা? পাসিং ফুটবলে ঝড় তুলে ডালোট-ইনাসিওদের ঘাস ধরিয়ে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের কোচ থাকার সময় এক সাক্ষাৎকারে লুইস ডে লা ফুয়েন্তে বলেছিলেন, ‘আক্রমণাত্মক ফুটবলই আমার দর্শন। তরুণদের নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। একজন কোচের দায়িত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করা। আর আমি সেই পথের পথিক।’



