সোহম কর: আগামী ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব। মঙ্গলবার রবীন্দ্র সদনে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মন্ত্রী তথা চলচ্চিত্র উত্সবের চিফ অ্যাডাভাইসার অরূপ বিশ্বাস বলেন, আগামী ৬ নভেম্বর ধন ধান্য প্রেক্ষাগৃহে উত্সবের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করবেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। এই বছর উদ্বোধনী ছবি হিসেবে দেখানো হবে অজয় কর পরিচালিত উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন অভিনীত বিখ্যাত ‘সপ্তপদী’। শহরজুড়ে মোট ২০টি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে ৩৯টি দেশের ২১৫টি ছবি। এর পাশাপাশি শতবর্ষে শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হবে ঋত্বিক ঘটক, সলিল চৌধুরী, সন্তোষ দত্ত সহ আরও অনেক ব্যক্তিত্বকে। থাকছে সিনেমায় স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশেষ সেমিনার।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অরূপ বিশ্বাস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, কোয়েল মল্লিক, হরনাথ চক্রবর্তী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব শান্তনু বসু প্রমুখ। এই বছরের ফোকাস দেশ পোল্যান্ড। সে দেশের প্রতিনিধিও এদিন উপস্থিত ছিলেন। মোট ১৮২৭টি ছবি এই বছর জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে ১৮৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ৩০টি ছোট ছবি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ৩১তম কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবের লোগো ও ট্রফি উন্মোচন করা হয়। এই বছর চলচ্চিত্র উত্সব থেকে মোট ১৫টি বিদেশি ছবি ভারতের বুকে প্রথম প্রদর্শনী হবে। প্রতি বছরের মতো এই বছরও ৭ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত একতারা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সিনে আড্ডা। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী এবছর এই অনুষ্ঠানের নামকরণ করেছেন ‘গানে গানে সিনেমা’। লোকগান, রাগাশ্রয়ী, রোমান্টিক সহ একাধিক সিনেমার গানের বিষয়ে আড্ডা জমে উঠবে প্রতিদিন। সেখানে অংশ নেবেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীরা। এই বছর বন্দে মাতরমের দেড়শ বছর উপলক্ষ্যে দেখানো হবে ‘আনন্দ মঠ’। অন্যান্য বছরের মতো সেমিনার, মাস্টার ক্লাসও থাকবে। শান্তনুবাবু বলেন, সিনেমার এআই, পোল্যান্ডের সিনেমা, ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে সেমিনার হবে। তার সঙ্গে সত্যজিত্ রায় মেমোরিয়াল লেকচার থাকবে। ঋত্বিক ঘটক মেমোরিয়াল আলোচনায় অংশ নেবের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আদুর গোপালাকৃষ্ণন। গগনেন্দ্র প্রদর্শশালাতে প্রদীপ কুমার, গুরু দত্ত, সন্তোষ দত্ত, রবার্ট অল্টম্যান, সাম পেকিনপা, রিচার্ড বর্টন, ওজোসিচ হ্যাসকে নিয়ে প্রদর্শনী চলবে। নন্দন, শিশির মঞ্চ, রবীন্দ্র সদন ছাড়াও শহরের মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গল স্ক্রিনগুলোতেও চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।