সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন বছর আঠারোর সোনালী মাল ওরফে মানুসদা। মূক ও বধির হওয়ায় তাঁর ঠাঁই হয়েছিল উলুবেড়িয়ার আশা ভবন সেন্টারে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই তরুণী। অবশেষে আশা ভবন সেন্টারের উদ্যোগে নিজের বাড়িতে ফিরতে চলেছেন সোনালী। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহেই মা-বাবার কাছে ফিরে যাবেন তিনি।
গত ২ ফেব্রুয়ারি হাওড়া স্টেশন থেকে সোনালীকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়ার আশা ভবন সেন্টারে পাঠায় পুলিস। সূত্রের খবর, সেন্টারে আসার পর থেকেই মনমরা ছিলেন সোনালী। তিনি নিজের নাম লিখতে পারলেও ঠিকানা লিখতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় তাঁর বাড়ি খুঁজে বের করতে শুরু হয় কাউন্সেলিং। ফলও মেলে। হোমের সুপার অরুণিমা জাসু বলেন, কাউন্সেলিং চলাকালীন সোনালী হাতের ইশারায় হাওড়া স্টেশনের আশপাশের এলাকা দেখান। এরপর আমরা সরকারি অনুমতি নিয়ে সোনালীকে হাওড়া স্টেশন, হাওড়া ময়দান, ফুল মার্কেটে প্রভৃতি জায়গায় নিয়ে যাই। কিন্তু তিনি এইসব জায়গা চিনতে পারেননি। এরপর সোনালী রেলের প্ল্যাটফর্মের দিকে ইশারা করেন। এরপর তাঁকে নিয়ে ট্রেন ধরে আমরা ব্যান্ডেল স্টেশনে যাই। সেখানে যাওয়ার পর সোনালীর মুখের অভিব্যক্তিই বুঝিয়ে দেয়, এই জায়গাটি তাঁর চেনা। তারপর তরুণীর দেখানো পথ ধরে ওভারব্রিজ পেরিয়ে ওপারে গিয়ে টোটোয় চেপে সোনালীর বাড়ি গিয়ে পৌঁছাই। অরুণিমা জাসু বলেন, সরকারি অনুমতি পাওয়ার পর সোনালীকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাড়ি খুঁজে পেয়ে খুশি বছর আঠারোর এই তরুণী। খুশি আশা ভবন সেন্টারের কর্ণধার জন মেরি বারুইও। তিনি জানান, বিশেষভাবে সক্ষম এক তরুণী তার পরিবারের কাছে ফিরে যাবে, এর থেকে ভালো আর কিছু হতে পারে না।