Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রলার থেকে নিখোঁজ ছেলে, দেড় বছর অপেক্ষায় দিশাহারা মা

প্রায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই ছেলের। এখন তাঁর ছবি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও আধিকারিকদের কাছে ঘুরছেন মা।

ট্রলার থেকে নিখোঁজ ছেলে, দেড় বছর অপেক্ষায় দিশাহারা মা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই ছেলের। এখন তাঁর ছবি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও আধিকারিকদের কাছে ঘুরছেন মা। আদালত চত্বরেও ঘোরাঘুরি করছেন। আশা, কোনো সহৃদয় আইনজীবী হয়ত তাঁর অসহায় অবস্থা দেখে সাহায্য করবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। মানসিকভাবে ক্রমশ ভেঙে পড়ছেন প্রৌঢ়া। 

Advertisement

২০২৪ সালের অক্টোবরে ট্রলারে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান সাগরের কোম্পানির ছাড় এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু প্রামাণিক। তখন মোবাইলের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছর হল পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়নি। তিনি কোথায় আছেন সে তথ্য কেউ পরিবারকে দিতে পারেনি। তাঁর মা মৃন্ময়ী প্রামাণিক দুশ্চিন্তায় পড়ে সাগর ও নামখানা থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। তারপরও বহুদিন কেটে যায়। কিন্তু ছেলের খোঁজ পাননি মা। এরপর তিনি ছেলের ছবি ও অন্যান্য সব নথিপত্র নিয়ে কলকাতায় ভবানীভবন ও লালবাজারে যান। স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির বিভিন্ন অফিসেও যান। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে নিজের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ছেলের খোঁজে আদালতে ঘুরছেন। 
জানা গিয়েছে, এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে ট্রলার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ হয় কৃষ্ণেন্দুর। তারপর মাছ ধরতে সমুদ্রে রওনা দেন। মৃন্ময়ীদেবী বলেন, ‘ট্রলারে থাকাকালীন মোবাইলে জানিয়েছিল ওকে মারধর করা হয়েছে। তখন প্রতিবেশী দাদাকে বলেছিলাম ছেলেকে ফিরিয়ে আনুন। তিনি আজ নয় কাল বলে প্রায় ছ’মাস কাটিয়ে দিয়েছেন। কোনো গুরুত্ব দেননি। ওই ট্রলারের সবাই ঘরে ফিরে এসেছেন। কিন্তু আমার ছেলে আর ফেরেনি। থানায় অভিযোগ করেছি। মৎস্যজীবী সংগঠনকে জানিয়েছি। ভবানীভবন, লালবাজার পর্যন্ত গিয়েছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। কি করব কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। এখন সাহায্যের আশায় আদালতে গিয়ে আইনজীবীদের বলছি।’ সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ