একটী লোক। বাংলা-ই এক গ্রামে তার বাড়ী। স্ত্রী-পুত্র-পরিবার নিয়ে পরম সুখে স্বচ্ছন্দেই তার জীবন কাটে। সকাল সন্ধ্যা দুবেলা ভগবানের পূজা, উপাসনাও করে। সাধু সন্ন্যাসী, অতিথি অভ্যাগতের আদর যত্নও তার গৃহে যথারীতিই হয়ে থাকে।
একদিন প্রাতঃকালে সন্ধ্যা আহ্নিক সেরে সে বসেছে তার ইষ্টদেবতার পূজাতে। তার পূজাও সুরু হয়েছে, আর তার নাকে কোথা থেকে ভেসে আসছে পাকা কাঁঠালের সুমিষ্ট গন্ধ।
সে গন্ধ পেলেও ততটা খেয়াল করেনি সেই গন্ধের দিকে। কিন্তু সে গন্ধ ক্রমশঃই তীব্র হতে তীব্রতর হয়ে উঠছে তার কাছে।
লোকটী কেবলই ভাবছে, পাকা কাঁঠালের এই তীব্র সুগন্ধ কোথা থেকে আসছে! এর কোন হদিশ না পেয়ে লোকটী কোনো প্রকারে পূজা সমাপ্ত করে উঠে পড়ল সেই গন্ধের উৎস খুঁজতে।
তার নিজের বাগান, তার পাড়া-প্রতিবেশীদের বাগান, একে একে সে সর্বত্রই খুঁজে খুঁজে দেখল। পাকা কাঁঠাল তো দূরের কথা, কোনো গাছে একটী কাঁঠালও নেই। প্রকৃত পক্ষে সে তো কাঁঠালের সময়ই নয়। অবশ্যি বারো-মেসে কাঁঠাল গাছও হয় কিন্তু সেরূপ একটী বৃক্ষও তাদের গ্রামে নেই।
লোকটীর মনে এ ব্যাপারটী বড়ই রহস্যময় বলে বোধ হ’তে লাগল। এই তো, এখনো তার নাকে কাঁঠালের সে তীব্র গন্ধ ভেসে আসছে। কিন্তু সে গন্ধের উৎস সে কিছুতেই নির্ণয় করতে পারল না।
লোকটী ফিরে এলো তার বাসগৃহে। এখনো সেই তীব্র গন্ধ। লোকটী ভাবতে লাগল সেই রহস্যের কথা।
লোকটী বসে আছে তার ঘরের বারান্দায়। হঠাৎ সে দেখতে পেলো, অদূরেই তাদের গ্রামের পথ দিয়ে চলেছে এক মুসলমান ফকির। হাতে তার জপের মালা—মুখ নড়ছে। বোধহয় তার ইষ্টমন্ত্র জপ করতে করতে চলেছে ফকির সাহেব।
তাকে দেখতে পেয়েই লোকটী দৌড়ে গিয়ে তার কাছে উপস্থিত হ’ল। ফকির সাহেবকে সেলাম করে বলল লোকটী,— ‘ফকির সাহেব সেলাম। আমি বড় সমস্যায় পড়েছি। সমস্যার সমাধানের জন্যই আপনার সাহায্য প্রার্থনা করতে এসেছি।’
প্রথমে তো ফকির সাহেব লোকটীর কথায় তত গুরুত্ব দিল না। এড়িয়ে যেতেই চাইল।
কিন্তু লোকটার পুনঃ পুনঃ পীড়াপীড়িতে ফকির সাহেব জানতে চাইলেন, তার সমস্যাটা কী?



