


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।’ ফলে খবরদার খাবেন না। প্যাকেট থেকে সিগারেট-বিড়ি বের করুন। মাটিতে ছুড়ে ফেলে দিন। দুম করে ফাটবে। তাই দেখেই আনন্দ নিন। ‘স্মোকিং ইজ ইনজুরিয়াস টু হেলথ।’
ঠাট্টা নয়। সত্যি সত্যিই সিগারেট আজকাল দুম করে ফাটছে। এবছর দীপাবলিতে একনম্বর জায়গা করে নিয়েছে সিগারেট-বিড়ি বোম। শহরতলি থেকে গ্রামাঞ্চল—বোমের চাহিদা একেবারে তুঙ্গে। পাশাপাশি দেশলাই বোমেরও চাহিদা ভালো। ফলে হয়েছে কি? এবার অন্য বাজি বিক্রি গিয়েছে কমে। সিগারেট-বিড়ি বাজিতে বিপদের ঝুঁকি কম থাকায় ছোটদের হাতে নির্দ্বিধায় তুলে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। মহা আনন্দে সেগুলি ফাটাচ্ছে খুদেরা।
দেড় ইঞ্চি লম্বা ও সরু দেশলাই বোমা। দেশলাইয়ের খাপের মতো দেখতে। খাপের দু’দিকে বারুদ। দেশলাই কাঠি খাপের পাশে ঘষলেই আগুন। জ্বলে উঠলে সেটিকে মাটিতে ফেলে দিতে হয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে মৃদু শব্দ করে তারপর ফাটে। সিগারেট বোমের দৈর্ঘ্যও প্রায় দেড় ইঞ্জি। দেখতেও প্রায় একইরকম। এই বোমে আগুন দিতে হয় না। মাটিতে ছুড়ে ফেললেই ফেটে যায়। কাকদ্বীপের বাজি বিক্রেতা দিলীপ দাস বলেন, ‘গত চারদিন ধরে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে বিড়ি বোমা। তারপর সিগারেট, পপ ও দেশলাই। তবে বিড়ি বোমের চাহিদা এবার সবথেকে বেশি।’ তিনি জানান, একটি প্যাকেটে প্রায় ৩০টি বিড়ি বোমা থাকে। খুচরো বাজারে প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। চারদিনে প্রায় চার হাজার প্যাকেট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। একটি ছোট প্লাস্টিকের খাপে থাকে ১২টি করে সিগারেট বোম। দাম কুড়ি টাকা। এই কয়েকদিনে বিক্রি হয়েছে প্রায় তিন হাজার প্যাকেট। দেশলাই বোমা বিক্রি হয়েছে দেড় হাজার প্যাকেট। এর দাম ৪০ টাকা। এক প্যাকেটে থাকে দশ পিস বোমের কাঠি। বাজি কিনতে এসেছিলেন তপন সানকি। তিনি বলেন, ‘ছোটরা বিড়ি বোম ফাটাতে যে কী মজা পাচ্ছে কি বলব। একটি প্যাকেটে অনেকগুলি থাকায় তারা দীর্ঘ সময় ধরে ফাটাতে পারছে। এক্ষেত্রে বিপদের ঝুঁকি অনেক কম। অন্য শব্দবাজিতে বিপদের ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি।’ -নিজস্ব চিত্র