


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সল্টলেকের জন্মদিন কবে? এই উপনগরীর অনেকে মনে করেন ১৬ এপ্রিল হল সল্টলেকের বা লবণহ্রদের বা বিধাননগরের জন্মদিন। ২৯ তারিখ বিধানসভা ভোট। জোরকদমে তার তোড়জোড় চলছে। ফলে ১৬ এপ্রিল তারিখটি চলে গিয়েছে খানিক আড়ালে। তবে আজ একবার হলেও উল্টে দেখা যাক ইতিহাসের সেই পাতাটা।
১৬ এপ্রিল জন্মদিন কেন? কারণ জানতে যেতে হবে ১৯৬২ সালে। সে বছরের ১৬ এপ্রিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় হুগলি নদী থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সল্টলেকে পলিমাটি নিয়ে আসার কাজের সূচনা করেছিলেন। জলাশয় ভরাট করে সল্টলেক উপনগরী তৈরির বরাত দেওয়া হল ইরান মাল্টিভোনিক কোম্পানি নামে যুগোশ্লাভিয়ার একটি সংস্থাকে। যুগোশ্লাভ সংস্থাকে লবণহ্রদের ভেড়ি ভরাট করে নতুন উপনগরীর তৈরি করতে দেওয়ার কারণ, ওই সংস্থা তাদের দেশে একইভাবে একটি শহর তৈরি করেছিল বিরাট জলাশয় ভরাট করে।
হ্রদ ক্রমে ভরাট হয়। তারপর লটারির মাধ্যমে জমি বণ্টন হয়। ধীরে তৈরি হতে শুরু করে বসত বাড়ি। ১৯৭০ সালের ৯ মার্চ এবি ব্লকে চক্রবর্তী পরিবার থাকা শুরু করে। তাঁরাই সল্টলেকের প্রথম বাসিন্দা। চক্রবর্তীরা গত ৫৫ বছর ধরে দেখলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ এলেন সল্টলেকে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন এই উপনগরীতে।
ইতিহাসের একটি অন্য পাতা এ অবসরে উল্টে দেখলে মন্দ হয় না। যদি বলা যায় সল্টলেকের সঙ্গে নবাব সিরাজউদৌল্লার একটি ক্ষীণ হলেও যোগসূত্র আছে? জানতে নিশ্চয় ইচ্ছে হয়... ইতিহাসবেত্তাদের একাংশের মতে, ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করার সময় ১৭৫৬ সালে লবণহ্রদ এলাকায় সেনা শিবির বসিয়েছিলেন সিরাজ। কিছু জলা বুজিয়ে সৈন্যদের থাকার ব্যবস্থা, ও যাতায়াতের সুবিধায় রাস্তা ইত্যাদি তৈরি করেন। তবে পলাশীর যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর কলকাতার জমিদারি যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। লবণহ্রদ অঞ্চল সেই জমিদারিরই অংশ। ইংরেজরা সে জমিদারির বিলিবণ্টন করে। পত্তনি, ইজারা ইত্যাদি দেয়। সে অনেক বড়ো গল্প। তার সারসংক্ষেপ হল, ব্রিটিশদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে এক ব্যক্তি লবণহ্রদ এলাকাটির জমিদার হয়ে ওঠেন ১০০ বছরেরও আগে। তিনিই মৎস্যজীবীদের নিয়ে এসে মাছ চাষ শুরু করেন। তখন থেকেই এই এলাকা ভেড়ি অঞ্চল। তারপর অনেক জল গড়াল। ইংরেজদের বিদায় জানাল ভারতবর্ষ। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী আসার শুরু হল। কলকাতায় ও শহরতলিতে স্থান সংকুলান। তখন প্রয়োজন পড়ল অতিরিক্ত বসত জমির। তখনই পরিকল্পনা উপনগরী তৈরির। তৈরি হল সল্টলেক। ১৯৫৫ সালে নোটিস দিয়ে ভেড়ি সহ প্রায় ৩৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের অধিগ্রহণ করল রাজ্য। শুরু হল সল্টলেক তৈরির কাজ। সংক্ষেপে এই হল সল্টলেক। আজকের বিধাননগর।