Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর আতঙ্ক, পূর্ব মেদিনীপুরে ফের বৃদ্ধের মৃত্যু, চাঞ্চল্য

মৃত্যুর মিছিল চলছেই। ফের পূর্ব মেদিনীপুরে এসআইআর আতঙ্কে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শান্তিপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বরনান গ্রামের ঘটনা।

এসআইআর আতঙ্ক, পূর্ব মেদিনীপুরে ফের বৃদ্ধের মৃত্যু, চাঞ্চল্য
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মৃত্যুর মিছিল চলছেই। ফের পূর্ব মেদিনীপুরে এসআইআর আতঙ্কে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শান্তিপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বরনান গ্রামের ঘটনা। মৃতের নাম মৃত্যুঞ্জয় সরকার (৭৩)। গত ৪ জানুয়ারি নো-ম্যাপিং ভোটার হিসেবে এসআইআর নোটিস পেয়ে তিনি শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে জমির দলিলপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু, ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না, সেই সংশয় মনের মধ্যে চেপে বসেছিল। এই আতঙ্কে ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করেননি। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। রবিবার দুপুর থেকে বুক ধড়ফড় সহ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তড়িঘড়ি জানুবসান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সোমবার সকাল সওয়া ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

Advertisement

মৃত্যুঞ্জয়বাবুর ছেলে মণ্টু সরকার বলেন, এসআইআর নোটিস পেয়ে গত ৪ জানুয়ারি বাবা বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে আসার পরই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করছিলেন না। অসুস্থ হয়ে পড়েন। রবিবার শারীরিক অবস্থা একেবারে সংকটজনক হওয়ায় আমরা জানুবসান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে মারা যান। জানা গিয়েছে, মৃত্যুঞ্জয়বাবু বরনান গ্রামের আদি বাসিন্দা। ফুলের কাজ করে রোজগার করতেন। তাঁর এক ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে মণ্টু একটি ফলের দোকান চালান। ১৯৯৫ সাল থেকে ভোটার কার্ড থাকলেও ২০০২ সালে তাঁর ভোটার লিস্টে নাম ছিল না। যে কারণে এবার এসআ‌ইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম লিঙ্ক করা যায়নি। তাই নন ম্যাপিং ভোটার হিসেবে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) কৃষ্ণা সাহা তাঁকে নোটিস ইস্যু করেন। সেই নোটিস পেয়ে ৪ জানুয়ারি রবিবার তিনি শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিসে হাজির হন। প্রামান্য নথি হিসেবে দলিল নিয়ে যান। কিন্তু, শুনানি থেকে ফিরে আসার পর থেকে খাওয়া দাওয়া অনিয়মিত হয়ে যায়। শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তমলুক বিধানসভার বরনান ৩৫ নম্বর বুথের বিএলও অমিতা দুয়ারি বলেন, মৃত্যুঞ্জয়বাবুর মতো মোট ন’জন এই বুথে নন ম্যাপিং ভোটার হিসেবে নোটিস পেয়েছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে না থাকায় এবং বাব-মা, ঠাকুরদা-ঠাকুরমা কিংবা দাদু-দিদার সঙ্গে লিঙ্ক না থাকায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে, ২০০২ সালের লিস্টে মৃত্যুঞ্জয়বাবুর নাম না থাকলেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের নাম ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ