নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে তৃণমূলের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, বাংলার মানুষের পাশে থাকতে রাজ্যজুড়ে হবে ৬২০০টি ক্যাম্প এবং বিধানসভা ভিত্তিক ওয়ার রুম। সেই ব্যবস্থা খুব ভালোভাবেই হয়েছে বলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উঠে এসেছে। এবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে নয়া স্ট্র্যাটেজি নিয়ে পথে নামতে চলেছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীদের আগামী দিনে কী করণীয়, সেটাই উঠে আসবে আগামী সোমবার মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে। ওইদিন বিকেলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দশ হাজারের বেশি তৃণমূলের পদাধিকারী থাকবেন সেখানে। তৃণমূলের নজরে রয়েছে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা, সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি। সেখানে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে বেশকিছু নির্দেশিকা দলের তরফে দেওয়া হবে জেলার নেতা-কর্মীদের।
নির্বাচন কমিশনের তরফে গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি। আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম জমা নেওয়া হবে। তারপর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এই আবহে তৃণমূল এবার সাংগঠনিক একটি বৈঠক করছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরের খবর, জেলার নেতাদেরকে স্পষ্টভাবে বার্তা দেওয়া হবে কোনও প্রকৃত ভোটারের যেন নাম বাদ না-যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আগের যে ভোটার তালিকা ছিল এবং ৯ ডিসেম্বর যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে সেটা খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কোনও আধিকারিক বিজেপির হয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন, এমন অভিযোগ এলে তা তৎক্ষণাৎ দলকে জানাতে হবে। এছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় নির্বাচন কমিশনের তরফে দাবি এবং আপত্তি সংক্রান্ত ভোটারদের তথ্য স্ক্রুটিনি করা হবে। ঝাড়াই-বাছাইয়ের এই সময়ে বিজেপি যাতে কোনওভাবেই নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে কোনও ভোটারের নাম বাদ দিতে না পারে বা নতুন কারও নাম ঢোকাতে না পারে, তার দিকে কড়া নজর রাখার বার্তা দেবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। যেসব দিনে নির্বাচন কমিশনের তরফে স্ক্রুটিনি হবে সেদিন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা রাস্তায় থাকবেন, এমন বার্তাও দেওয়া হবে।
এছাড়া জেলায় জেলায় ক্যাম্প বা শিবির থাকবে, সেখানে গিয়েও সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যা-অভিযোগ জানাতে পারবেন। তৃণমূলের আরও নজর থাকছে ইভিএমের দিকে। মেশিনে যাতে কোনও কারসাজি না-হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ রাজ্য নেতৃত্বের তরফে দেওয়া হবে বলেই খবর।